লাগাতার বর্ষণে পাহাড়ে ফের ধস ও নদী বিপর্যয়, উত্তরবঙ্গ জুড়ে চরম উদ্বেগ!

লাগাতার বর্ষণে পাহাড়ে ফের ধস ও নদী বিপর্যয়, উত্তরবঙ্গ জুড়ে চরম উদ্বেগ!

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম প্রবল বর্ষণে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পং সহ পার্শ্ববর্তী সিকিমের পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। লাগাতার এই বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের একাধিক জায়গায় নতুন করে ধস নেমেছে, যার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। একই সঙ্গে হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে এবং ভুটান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

টানা বৃষ্টির জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার। বালাসন নদীর তীব্র স্রোতে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। এছাড়া ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের কার্শিয়াং সহ বিভিন্ন অংশে বড় আকারের ধস নামার কারণে দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়িগামী প্রধান রাস্তাটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে সিকিম ও কালিম্পং রুটে যান চলাচল এখনও সাময়িকভাবে স্বাভাবিক আছে। ধসের পাশাপাশি বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে রয়েছে এবং বহু পর্যটক বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও জরুরি হেল্পলাইন

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ ও ধস সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী দুর্গত এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো জরুরি সহায়তার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে দুটি ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বর (১৮০০-২১২১-৬৫৫ এবং ০৩৫৩-২৫১৩৯৮৬) চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন এবং উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

দুর্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বর্ষাকালে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ঢালে ধস নামার প্রবণতা বরাবরই বেশি থাকে। এবারও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে লাগাতার অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি নদীগুলির জল ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত জলপ্রবাহই এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরের ভয়াবহ দুর্যোগের ক্ষত কাটিয়ে যখন উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও অর্থনীতি সবেমাত্র চাঙা হতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি আরও চললে নদীর জল সমতলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করতে পারে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়লে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্প দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *