প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে ভারতের বিরাট জয়, এবার ভিয়েতনামের আকাশে ব্রহ্মোসের গর্জন!

ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে আরও একটি ঐতিহাসিক সাফল্যের অধ্যায় যুক্ত হতে চলেছে। ফিলিপাইন্সের পর এবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ভিয়েতনামের কাছে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে ভারত। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং মাত্র কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ও ছোটখাটো ছাড়পত্র মিললেই এই যুগান্তকারী চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে। ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের প্রধান জয়তীর্থ জোশী সম্প্রতি এই অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
কৌশলগত শক্তির নতুন সমীকরণ ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির এবং নির্ভুল লক্ষ্যভেদী সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ—তিনটি মাধ্যম থেকেই সমান দক্ষতায় নিক্ষেপযোগ্য এই আধুনিক সমরাস্ত্রটি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘদিন ধরেই ভিয়েতনাম তার সামরিক সক্ষমতা আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যেখানে ব্রহ্মোসের অন্তর্ভুক্তি দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যূহকে আমূল শক্তিশালী করবে। এই চুক্তিটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিয়েতনামের সঙ্গে এই সম্ভাব্য চুক্তি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো-প্যাসিফিক) অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে বহুগুণ শক্তিশালী করবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের ভূ-রাজনৈতিক উপস্থিতি জোরদার হওয়ার পাশাপাশি এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। ফিলিপাইন্সের পর ভিয়েতনাম এবং পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও ব্রহ্মোস রপ্তানি সংক্রান্ত আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলায় এই অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এটি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অভাবনীয় সফলতারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করছে।