যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা! নবান্নের রিপোর্টে ‘যুবশক্তি’র উল্লেখ না থাকায় দুশ্চিন্তায় লক্ষ লক্ষ যুবক

যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা! নবান্নের রিপোর্টে ‘যুবশক্তি’র উল্লেখ না থাকায় দুশ্চিন্তায় লক্ষ লক্ষ যুবক

রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনের মেগা জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে যখন শোরগোল তুঙ্গে, ঠিক তখনই নতুন সরকারের ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নিয়ে তৈরি হলো বড়সড় ধোঁয়াশা। আগের সরকারের চালু করা ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের নাম ও রূপ পরিবর্তন করে নতুন এই কার্ডের মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে জনকল্যাণ শিবিরে এই কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া চরম বিভ্রান্তি এবং নবান্নের সাম্প্রতিক তথ্যে এর অনুপস্থিতি উপভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

জনকল্যাণ শিবিরে মেলেনি আবেদন করার সুযোগ

শিবির শুরুর আগে বিভিন্ন স্তরে প্রচার হয়েছিল যে, ৪ দিনের এই বিশেষ জনকল্যাণ শিবিরে গিয়েই সাধারণ মানুষ ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর জন্য নতুন করে আবেদন জমা দিতে পারবেন। তবে প্রদীপ জ্বলতেই দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যাম্পে গিয়ে বহু চাকরিপ্রার্থী ও বেকার যুবক-যুবতী এই কার্ডের নির্দিষ্ট কোনও পরিষেবা বা ফর্ম পাননি বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। কাউন্টারে কাউন্টারে ঘুরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে চরম হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীকে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রিপোর্টে ব্রাত্য বেকার ভাতা

ধোঁয়াশার পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে খোদ নবান্নের সাম্প্রতিকতম একটি প্রশাসনিক তথ্য। শুক্রবার নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনকল্যাণ শিবিরের যে সামগ্রিক অগ্রগতির খতিয়ান ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন, সেখানে নতুন এই প্রকল্পের কোনও উল্লেখই মেলেনি।

পরিস্থিতির প্রধান উদ্বেগজনক দিকগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • বেকার ভাতার অনুপস্থিতি: মুখ্যমন্ত্রীর পেশ করা চার দিনের শিবিরের বিস্তারিত তথ্যে রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া ৩০০০ টাকার মাসিক ভাতার বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করা হয়েছে।
  • উপভোক্তাদের চরম হতাশা: নবান্নের এই রহস্যজনক নীরবতাকে অত্যন্ত ‘খারাপ খবর’ হিসেবে দেখছেন রাজ্যের কয়েক লক্ষ কর্মহীন তরুণ-তরুণী।
  • ৫৫ লক্ষ উপভোক্তার ভবিষ্যৎ: পূর্বতন সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধাভোগী প্রায় ৫৫ লক্ষ নথিভুক্ত উপভোক্তা আশা করেছিলেন যে, এই শিবিরের মাধ্যমে তাঁদের বর্ধিত ভাতার প্রক্রিয়াটি মসৃণ হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের এই উদাসীনতায় তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

জনকল্যাণ শিবিরের সামগ্রিক সাফল্য নিয়ে যখন সরকারি স্তরে প্রচার চালানো হচ্ছে, তখন রাজ্যের একটা বিরাট অংশের যুবসমাজের এই ক্ষোভ ও ধোঁয়াশা আগামী দিনে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *