উত্তরবঙ্গে ধস আর বন্যার চরম তাণ্ডব, বিপর্যয় মোকাবিলায় তৈরি প্রশাসন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

টানা ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গে বন্যা ও ধসের জোড়া বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রবল বর্ষণে পাহাড়ের একাধিক পাহাড়ি রাস্তা ও সেতু ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন ডুয়ার্স এলাকার তিস্তা, তোর্সা এবং রায়ডাকের মতো প্রধান নদীগুলি ফুলেফেঁপে উঠে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে তৈরি হয়েছে এক চরম আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি।
জাতীয় সড়কে ধস ও বন্ধ ঐতিহাসিক টয় ট্রেন পরিষেবা
পাহাড়ে অনবরত বৃষ্টির জেরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার প্রধান সংযোগকারী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে মারাত্মক ধস নেমেছে।
পরিবহন ও যোগাযোগের বর্তমান চিত্রটি নিচে দেওয়া হলো:
- টয় ট্রেন স্তব্ধ: জাতীয় সড়কের ওপর ধস নামার কারণে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ও পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ টয় ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
- যোগাযোগের বিকল্প রুট: তবে এই মুহূর্তে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, বিকল্প রাস্তা সচল থাকায় উত্তরবঙ্গের কোনও অঞ্চল এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি এভাবে একটানা চলতে থাকে, তবে খুব শীঘ্রই প্রত্যন্ত এলাকাগুলি বিচ্ছিন্ন হওয়ার বড়সড় আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত প্রশাসন
উত্তরবঙ্গের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর সামনে আসতেই নবান্নের পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা শুরু করে দেওয়া হয়েছে। পাহাড় ও সমতলের জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।
এই মারাত্মক দুর্যোগের আবহে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধস পরিস্থিতির ওপর রাজ্য সরকার ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি রাখছে। যেকোনো ধরণের জরুরি অবস্থা ও বড় বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য উদ্ধারকারী দল, ত্রাণ সামগ্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গত এলাকার মানুষদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাক-আপ প্ল্যানও তৈরি রেখেছে প্রশাসন।