ভোটের সময় টাকা নিয়ে এখন অ্যাকাউন্ট খারাপ! বিদ্রোহী বিধায়কদের তীব্র আক্রমণ কুণালের

কয়েকশো কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিপুল বিমান-খরচ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন চরম টানাপোড়েন চলছে। দলের কালীঘাটের অ্যাকাউন্ট নিয়ে বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ প্রশ্ন তোলায় এবার ময়দানে নামলেন কুণাল ঘোষ। দলের আর্থিক লেনদেন, তহবিল বা সম্পদ নিয়ে নিজের কোনও ধারণা বা এক্তিয়ার নেই বলে শুরুতেই দাবি করেন তিনি। তবে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিধায়কদের রাজনৈতিক সততা ও আইনি অবস্থানকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কুণাল।
বিদ্রোহীদের প্রতি কুণালের চার মোক্ষম প্রশ্ন
দলের তহবিল নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও ক্ষুব্ধ বিধায়কদের উদ্দেশে চারটি সুনির্দিষ্ট ও তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানতে চেয়েছেন, বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হিসেবে এই বিদ্রোহী বিধায়করা দলের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়েছিলেন কি না। যদি অ্যাকাউন্টের উৎস বা দলের তহবিল নিয়ে তাঁদের মনে সন্দেহ বা অভিযোগ থেকেই থাকে, তবে সেই টাকায় ভোট করে জেতার পর এখন কেন তাঁরা সরব হচ্ছেন। কুণালের স্পষ্ট প্রশ্ন, নীতিগত আপত্তি থাকলে আগে ট্রেজারিতে টাকা ফেরত না দিয়ে এখন কেন বাইরে অভিযোগ করা হচ্ছে? পাশাপাশি, অ্যাকাউন্টের টাকা যদি বেআইনি বা বিতর্কিত হয়, তবে সেই টাকায় জেতা বিধায়কদের নির্বাচন কেন আইনত বাতিল ঘোষণা করা হবে না, সেই মারাত্মক প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। সব সুবিধা ভোগের পর এখন অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিধায়কদের এই অবস্থানকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন কুণাল।
সম্ভাব্য প্রভাব ও আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক মহলের মতে, শাসকদলের অন্দরের এই সংঘাত একপ্রকার অনিবার্যই ছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া ৫৮ জন বিধায়কের ব্লকের মধ্যেও এবার এই টাকার ভাগ নিয়ে মতবিরোধ এবং আপত্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে। অন্তর্কলহ ক্রমশ বড় আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি আগামীতে অন্য দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, দলের বিপুল পরিমাণ টাকার অধিকার এবং এর আইনি বৈধতা নিয়ে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন দড়ি টানাটানি শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজা অবধি গড়াতে পারে।