দুর্নীতি রুখতে এবার নজিরবিহীন কড়া আইনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার

দুর্নীতি রুখতে এবার নজিরবিহীন কড়া আইনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার

দুর্নীতি ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি দমনে প্রথম থেকেই আপসহীন মনোভাব বজায় রেখেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার সেই অবস্থানকে আরও কঠোর করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুর্নীতি প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাক্তন মন্ত্রী, পুরসভার কাউন্সিলর কিংবা প্রভাবশালী নেতা— যে-ই হোন না কেন, তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে রাজ্য প্রশাসন। শুক্রবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই কড়া আইনি পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আইনের কঠোর প্রয়োগ ও নতুন বিলের প্রস্তুতি

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, অপরাধ করে পার পাওয়ার দিন এবার শেষ। বর্তমানে যারা গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করার পাশাপাশি আইনি পথ মেনেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এতদিন যে আইনগুলো হিমঘরে বন্দি ছিল, সেগুলিকে এখন থেকে কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, অপরাধ দমনে আরও বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নবান্ন। আগামী রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র দফতর আরও একটি অত্যন্ত কড়া আইন আনতে চলেছে, যা পাস হলে যেকোনো অপরাধমূলক কাজ করার আগে অভিযুক্তরা একাধিকবার ভাবতে বাধ্য হবে। ফলতার সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপরাধীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না।

নবান্নের জিরো টলারেন্স নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব

নবান্নের শীর্ষ স্তর থেকে জানা গিয়েছে, রাজ্য থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় কড়া আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, আগামী রাজ্য বাজেটে দুর্নীতি এবং দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার একটি বড় খসড়া মিলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে নবান্নের এই নয়া রণকৌশল আদতে উত্তরপ্রদেশের ‘যোগী মডেল’-এরই অনুসারি। সেখানে অপরাধমূলক ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, এবার সেই আদলেই বাংলায় প্রভাবশালী দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি ক্রোক করার আইনি প্রক্রিয়া চালু হতে যাচ্ছে। বিক্ষোভের নামে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ উসুল করার যে হুঁশিয়ারি সরকার আগে দিয়েছিল, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার এই নয়া সিদ্ধান্ত সেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *