মাটি কেলেঙ্কারির পর এবার আমফান, ফলতায় জোড়া এফআইআরের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

মাটি কেলেঙ্কারির পর এবার আমফান, ফলতায় জোড়া এফআইআরের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

ডায়মন্ড হারবারে মাটি পাচার কাণ্ডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড় ধাক্কা এল শাসক শিবিরে। ২০২০ সালের বিধ্বংসী আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণের টাকা বণ্টনে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি সাংসদের বিরুদ্ধে ফলতা থানায় জোড়া এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৭৩ ধারা মেনে এই লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের কাছেও। সরকারি তথ্য এবং উপভোক্তাদের ডেটাবেস তুলে ধরে এই অভিযোগ করা হয়েছে।

কোটি কোটি টাকার ত্রাণে জালিয়াতি ও কাটমানি

বিজেপি নেতার পেশ করা প্রথম অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আমফানের পর ফলতা ব্লকে ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির জন্য দুটি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৯ হাজার ৪১ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে মোট ৪৪ কোটি ৭০ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল। সরকারি পোর্টালে এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার নামের পাশে সুপারিশকারী হিসেবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও পরিচয় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এফআইআর-এ অভিযোগ আনা হয়েছে যে, বহু ভুয়ো ও একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে এবং একই ফোন নম্বর ব্যবহার করে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের থেকে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগটি মৎস্যজীবীদের জন্য বরাদ্দ আমফান ত্রাণের ২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফলতা ব্লকে ঘূর্ণিঝড়ে আংশিক ও সম্পূর্ণ মিলিয়ে মাত্র ৮০টি নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, অথচ অদ্ভুতভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজারটি মাছ ধরার জালের। ৮০টি নৌকার বিপরীতে ১০ হাজার জালের ক্ষয়ক্ষতি সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং কাল্পনিক দাবি করে বিজেপি নেতার অভিযোগ, এখানে জাল উপভোক্তা সাজিয়ে সরকারি টাকা লুঠ করা হয়েছে।

ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড়

মাত্র চারদিন আগেই ডায়মন্ড হারবারের ১৬৩ বিঘা জমির প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি কেটে পাচারের অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফলতা ব্লকের প্রায় ৪৭ কোটি টাকার আমফান কেলেঙ্কারির সরাসরি যোগসূত্র মিলল সাংসদের নামের সঙ্গে। একের পর এক এই আইনি আক্রমণে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই উড়িয়ে দিচ্ছে। তবে একের পর এক সরকারি নথিসহ এই জোড়া এফআইআর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের রাজনৈতিক ও আইনি অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *