‘বাঘ শিকার করে একা’, উদ্ধব শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শিণ্ডের, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

 ‘বাঘ শিকার করে একা’, উদ্ধব শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শিণ্ডের, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শিব সেনার অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার এক নয়া মাত্রা নিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরের উত্তরাধিকার এবং শিব সেনার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিণ্ডে শিবিরের লড়াই আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। সম্প্রতি শিব সেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশের পর, নাম না করে তাঁকে এবং তাঁর অনুগামীদের নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে। উদ্ধব শিবিরকে লক্ষ্য করে তিনি মন্তব্য করেন, কুকুররা দল বেঁধে ঘেউঘেউ করলেও বাঘ সব সময় একাই শিকার করে।

ভাঙনের মুখে উদ্ধব শিবির ও শিণ্ডের হুঙ্কার

শিব সেনার ভাঙন নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে এক চরম সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। শিব সেনার ৬ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ তুলেছেন যে, দল নিজের মূল মতাদর্শ ত্যাগ করে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গেই মিশে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় তাঁরা শিণ্ডে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন। বিক্ষুব্ধদের এই পদক্ষেপের পর উদ্ধব শিবির পালটা শোকজ নোটিস জারি করলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে পরিস্থিতি এখন উদ্ধবের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই সুযোগেই একনাথ শিণ্ডে দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল একটি ‘ট্রেলার’, আসল সিনেমা এখনও বাকি আছে।

বালাসাহেবের স্বপ্ন ও ক্ষমতার লড়াই

নিজেকে বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শের প্রকৃত অনুসারী হিসেবে দাবি করে একনাথ শিণ্ডে স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিব সেনা কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের বা গুটিকয়েক নেতার সম্পত্তি নয়; এটি দলের প্রতিটি সাধারণ কর্মী ও নাগরিকের। কোনো রাজনৈতিক গডফাদার ছাড়াই কেবল বালাসাহেবের আদর্শকে সম্বল করে তিনি একজন সাধারণ ‘শাখা প্রমুখ’ থেকে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে উন্নীত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বেই শিব সেনা একাধিক নির্বাচনে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং সমগ্র মহারাষ্ট্রে সংগঠনের বিস্তার ঘটেছে। অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে উদ্ধব ঠাকরের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর শিবিরের অস্তিত্বকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব

এই তীব্র বাদানুবাদ এবং সাংসদদের দলত্যাগের ঘটনা মহারাষ্ট্রের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। উদ্ধব ঠাকরে যদি সত্যিই শিব সেনা প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান, তবে উদ্ধব শিবিরের কর্মীরা চরম নেতৃত্বহীনতায় ভুগবেন, যা শিণ্ডে শিবিরকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এর ফলে শিব সেনার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীকী আধিপত্য সম্পূর্ণভাবে একনাথ শিণ্ডের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, যা আগামী নির্বাচনগুলোতেও বড় প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *