মাথা ব্যথা হলেই মুড়ি-মুড়কির মতো ওষুধ নয়! সুস্থ থাকতে জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ

মাথা ব্যথা হলেই মুড়ি-মুড়কির মতো ওষুধ নয়! সুস্থ থাকতে জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে মাথা ব্যথার সমস্যায় ভোগেন কমবেশি অনেকেই। হঠাৎ শুরু হওয়া এই তীব্র যন্ত্রণা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পেতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছামতো ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ কিনে খেয়ে নেন। আবার অনেকেই বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনী ওষুধের ওপর ভরসা করেন। চিকিৎসকদের মতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এভাবে যখন-তখন ওষুধ খাওয়ার এই প্রবণতা শরীরের জন্য বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বা মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

প্রাথমিক সতর্কতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন

মেডিসিনের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, মাথা ব্যথা হলে শুরুতেই ওষুধ না খেয়ে প্রথমে এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণটি বোঝার চেষ্টা করা উচিত এবং সেই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে দূরে রাখা প্রয়োজন। যেমন—তীব্র রোদে ঘোরাঘুরির কারণে মাথা ব্যথা শুরু হলে দ্রুত ছায়াময় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। আবার বর্তমান সময়ে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলেও অনেকের মাথা ব্যথার সমস্যা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ স্ক্রিন দেখা বন্ধ করতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মাথা ব্যথার প্রাথমিক লক্ষণে একটি শান্ত ও কোলাহলমুক্ত ঘরে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলে কিংবা কিছুটা সময় ঘুমিয়ে নিলে কোনো ওষুধ ছাড়াই অনায়াসে যন্ত্রণার উপশম সম্ভব।

ওষুধ নির্বাচনে সতর্কতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ

অসহনীয় যন্ত্রণার ক্ষেত্রে সাময়িক স্বস্তির জন্য চিকিৎসকেরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধকে অত্যন্ত নিরাপদ বলে মনে করেন, কারণ একবার এই ওষুধটি সেবন করলে তেমন একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে না। তবে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী ওষুধের গুণগত মান, কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে চিকিৎসকদের মনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এই ধরনের অনিরাপদ ওষুধ সেবনে শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, ওষুধ খাওয়ার পরও যদি মাথা ব্যথা না কমে, যন্ত্রণার তীব্রতা মাত্রাতিরিক্ত হয়, নিয়মিত বিরতিতে এই সমস্যা দেখা দেয় কিংবা মাথা ব্যথার পাশাপাশি চোখে দেখার সমস্যা তৈরি হয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমেই এই সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *