মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মোদির, প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসায় শশী থারুর

ওমানে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে তীব্র উষ্মা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদির এই দৃঢ় অবস্থানের পর এবার তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন বিরোধী শিবিরের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। থারুরের এই মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেছে শাসকদল বিজেপি।
কূটনৈতিক মঞ্চে মোদির কড়া বার্তা
দীর্ঘদিন ধরেই ওমানে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মোদি সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল কংগ্রেস-সহ দেশের বিরোধী দলগুলি। তবে জি৭ মঞ্চে ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়ে মোদি স্পষ্ট করে দেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরীহ নাবিকরা কোনোভাবেই যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানের যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে শশী থারুর বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন। থারুরের মতে, ভারতীয় নাবিকরা সৈনিক নন, তাই আন্তর্জাতিক অবরোধ লঙ্ঘনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও হত্যালীলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব
কংগ্রেস সাংসদের মুখে মোদির এই প্রশংসা জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। থারুরের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, থারুরের এই প্রশংসা আসলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতিবাচক রাজনীতির মুখোশ খুলে দিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বদা আপসহীন, যা বিরোধীদের একাংশও এখন স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কূটনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতাকে যেমন মজবুত করবে, তেমনই দেশের অন্দরে বিদেশ নীতি প্রশ্নে বিরোধীদের এককাট্টা আক্রমণের ধার অনেকটাই কমিয়ে দেবে।