আলমারিতেই নষ্ট হচ্ছে পুরনো স্মার্টফোন! বিক্রিতে কেন এত ভয় ভারতীয়দের?

প্রযুক্তির নিত্যনতুন আপডেটের যুগে প্রতি বছরই স্মার্টফোন বদলানোর প্রবণতা বাড়ছে। বাজারে আসা নতুন মডেলের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নতুন হ্যান্ডসেট কিনছেন। কিন্তু নতুন ফোন কেনার পর পুরনো ফোনটির ভবিষ্যৎ কী হয়, তা নিয়ে অনেকেই উদাসীন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরনো ও অব্যবহৃত স্মার্টফোনগুলি অবহেলায় পড়ে থাকে বাড়ির আলমারি বা ড্রয়ারে।
তথ্য ফাঁসের আতঙ্ক
সম্প্রতি পুরনো ফোন কেনা-বেচা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান ক্যাশিফাইয়ের একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। প্রায় আট হাজার মানুষের ওপর করা এই সমীক্ষা অনুযায়ী, শতকরা ৭০ ভাগ মানুষই তাঁদের পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রি করতে চান না শুধুমাত্র ডেটা ও গোপনীয়তা ফাঁসের আশঙ্কায়। প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন ব্যবহারকারীর ভয়, ফোন বিক্রি করলে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং ডিটেলস বা অন্যান্য সংবেদনশীল নথির অপব্যবহার হতে পারে। ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করার পরেও বহু মানুষের মনে এই সাইবার নিরাপত্তার আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে।
বাজারের সম্ভাবনা ও প্রভাব
গ্রাহকদের মধ্যে এই ভীতি কাজ করলেও ভারতে ব্যবহৃত বা সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোনের বাজার কিন্তু দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেক মানুষ অতীতে ফোন বিক্রি করলেও, বর্তমানে ৪৫ শতাংশ গ্রাহক আর্থিক মূল্যের চেয়ে ডেটার নিরাপত্তাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। অন্যদিকে মাত্র ২৯.৫ শতাংশ মানুষের কাছে ফোনের ভ্যালু বা বিক্রয়মূল্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের সুরক্ষার বিষয়ে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার অভাব দূর করা না গেলে একদিকে যেমন অব্যবহৃত ফোনের স্তূপ জমে ই-বর্জ্যের পরিমাণ হু হু করে বাড়বে, অন্যদিকে ব্যবহৃত ফোনের বিশাল অর্থনৈতিক বাজার তার প্রকৃত সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হবে।