ধর্ষণের পর জোরপূর্বক গর্ভপাত, তবুও অভিযুক্তকেই জীবনসঙ্গী করতে চায় নির্যাতিতা কিশোরী!

ধর্ষণের পর জোরপূর্বক গর্ভপাত, তবুও অভিযুক্তকেই জীবনসঙ্গী করতে চায় নির্যাতিতা কিশোরী!

বিহারের মুজাফফরপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্র ধরে এক নাবালিকাকে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর এক ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এই ঘটনার বীভৎসতাকে ছাপিয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ নির্যাতিতার মানসিক অবস্থান। সব রকম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও ওই নাবালিকা এখন অভিযুক্ত যুবককেই বিয়ে করার দাবি জানিয়েছে, যা সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ ও পরিকল্পিত নির্যাতন

তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারণে ওই নাবালিকা একটি শপিং মলে কাজ করত। সেখানেই ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে কাছাকাছি অন্য একটি মলের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একদিন জন্মদিনের পার্টির বাহানায় ডেকে ওই কিশোরীকে ঠাণ্ডা পানীয়ের সঙ্গে মাদক খাইয়ে অচেতন করা হয় এবং প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে এবং বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন মেয়েটিকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত যুবক। এই পাশবিকতার জেরে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে ভ্রূণ হত্যা করা হয়। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে যুবকটি তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং নতুন করে হয়রানি শুরু করে।

আইনি জটিলতা ও সামাজিক প্রভাব

পুলিশ এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে জটিল দিক হলো নির্যাতিতার নিজস্ব দাবি। একদিকে যেখানে পকসো (POCSO) আইন এবং ধর্ষণের কঠোর ধারায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে নির্যাতিতা নিজেই সামাজিক চাপ বা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার ভয়ে অবচেতনভাবেই হোক কিংবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে, অপরাধীকেই বিয়ে করার জেদ ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ ও রক্ষণশীল সমাজে ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েদের ওপর তৈরি হওয়া সামাজিক কলঙ্ক এবং আইনি দীর্ঘসূত্রতার ভয়ই এই ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মূল কারণ। এই মানসিকতা একদিকে যেমন অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়, অন্যদিকে সমাজে নারীদের আইনি সুরক্ষার মূল উদ্দেশ্যকেই দুর্বল করে তোলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *