‘দলের টাকায় ভোটে জিতে এখন তদন্ত?’ সন্দীপনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তোপ কুণালের

‘দলের টাকায় ভোটে জিতে এখন তদন্ত?’ সন্দীপনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তোপ কুণালের

কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তদন্ত চাওয়া বিদ্রোহী বিধায়কদের এবার কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর নিশানায় এবার বহিষ্কৃত এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। দলের টাকায় ভোটে জিতে এখন সেই টাকারই উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সন্দীপনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে তোপ দাগলেন বেলেঘাটার বিধায়ক।

‘টাকা আগে ফেরত দিন’

রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, প্রথমবার নির্বাচনে জেতার জন্য প্রচারের কাজে সন্দীপন সাহা ২৭ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেছিলেন, যার মধ্যে ২৫ লক্ষ টাকাই নেওয়া হয়েছিল দলের ওই বিতর্কিত অ্যাকাউন্ট থেকে। কুণালের তীব্র কটাক্ষ, “দলের প্রতীকে এবং দলের টাকায় প্রথমবার বিধায়ক হলেন, আর আজ তাঁরা সেই অ্যাকাউন্টেরই তদন্ত চাইছেন! এই টাকা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত।”

তাঁর আরও দাবি, বিরোধীদের সাজানো ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে এই ‘বিশ্বাসঘাতকরা’ কাজ করছেন। আইন অনুযায়ী অবৈধ টাকায় ভোট হলে সেই নির্বাচনও অবৈধ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কাটমানি নাকি কেলেঙ্কারি? প্রশ্ন ঋতব্রতর

অন্যদিকে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের তহবিলের তদন্তের দাবিকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দলের এই বিপুল টাকার উৎস আসলে কী?

  • উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা: ঋতব্রতর দাবি, বিধায়কদের কাছে এই তহবিলের কোনও তথ্যই নেই। এটা কাটমানি, সরকারি তহবিল তছরুপ নাকি কেলেঙ্কারির টাকা, তা সরকারের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। তাই তাঁরা এফআইআর (FIR) করেছেন।
  • বিলাসবহুল খরচ বনাম সাধারণ কর্মী: সাধারণ কর্মীদের আইনি লড়াইয়ের জন্য দলের কাছে কোনও টাকা নেই, অথচ দিল্লি যাওয়ার জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের রাউন্ড ট্রিপে ৪ থেকে ৪.৫ কোটি টাকা ওড়ানো হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

লেনদেন বন্ধের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের

তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দলের কর্তৃত্ব নিয়ে এই চরম টানাপোড়েনের মাঝেই আসরে নেমেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস।

গত ১২ জুন কলকাতার একটি এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের শাখা ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে তিনি দলের অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত রকম ডেবিট লেনদেন বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছেন। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *