কাটমানি থেকে বধূ নির্যাতন! হাওড়া ও গাইঘাটায় দুই তৃণমূল নেতা-নেত্রীকে ‘ডিম-স্নান’ ক্ষুব্ধ জনতার

হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনা: রাজ্যজুড়ে শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এবার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ‘ডিম থেরাপি’। রবিবার হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় দুই তৃণমূল নেতা ও নেত্রীকে জনরোষের মুখে পড়ে আক্ষরিক অর্থেই ‘ডিম-স্নান’ করতে হলো।
হাওড়ায় প্রাক্তন কাউন্সিলরকে ‘ডিম থেরাপি’ হাওড়া পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কাটমানি, তোলাবাজি এবং জোরজুলুমের অভিযোগ ছিল। রবিবার কাসুন্দিয়া রোডে তাঁকে দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোঁড়া হয়। কার্যত মাথা পেতে এই ‘ডিম-স্নান’ গ্রহণ করতে বাধ্য হন ওই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর।
বৌমাকে নির্যাতনের দায়ে ধৃত নেত্রীকে ডিম ও চড় অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় নিজের বৌমার ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন গাইঘাটা পঞ্চায়েতের তৃণমূল সভাপতি ইলা বাগচি। অভিযোগ, তিনি বৌমার সমস্ত গয়না কেড়ে নিয়ে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। রবিবার তাঁকে গাইঘাটা থানা থেকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
এলাকার মহিলারা ধৃত নেত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়তে থাকেন এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচতে শাড়ির ঘোমটায় মুখ ঢাকার চেষ্টা করেন ইলাদেবী। কিন্তু মহিলারা ছুটে গিয়ে সেই ঘোমটা টেনে খুলে দেন এবং তাঁকে চড়-থাপ্পড়ও মারা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। শেষে জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতে কার্যত ছুটিয়ে ওই নেত্রীকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।
রাজ্যজুড়ে ‘ডিম-স্নান’ ট্রেন্ড! সম্প্রতি শাসকদলের নেতা-মন্ত্রী বা জনপ্রতিনিধিরা গ্রেফতার হয়ে আদালতে যাওয়ার পথে বারবার এই ‘ডিম থেরাপি’-র সম্মুখীন হচ্ছেন। এর আগে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও এভাবেই ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। যদিও কুণাল ঘোষকে ডিম ছোঁড়ার ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে একের পর এক নেতা-নেত্রীর এই পরিণতি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।