শান্তি বৈঠকের মাঝেই ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, তবে কি ফের যুদ্ধের মুখে মধ্যপ্রাচ্য?

সুইজারল্যান্ডে যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। লেবাননে ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপ বন্ধ না হলে তেহরানের ওপর আরও জোরালো সামরিক হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আগ্রাসী অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন—তাহলে কি ভেস্তে যেতে চলেছে শান্তিপ্রক্রিয়া, নাকি ফের কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখে পড়তে যাচ্ছে দুই দেশ?
শান্তিচুক্তির আবহ ও ট্রাম্পের হুমকি
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছেন। দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৪টি শর্ত সংবলিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান, লেবাননসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেই নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে ট্রাম্প লেখেন, লেবাননে ইরানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য পাওয়া গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করা হলে ইরানের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানা হবে।
সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই চরম উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। গত শুক্রবার একটি সংঘর্ষবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হলেও, শনিবারই লেবাননে পুনরায় হামলা চালায় ইসরায়েলি ফৌজ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে অবিশ্বাস দানা বেঁধেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ এবং অন্যদিকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি চলমান শান্তি আলোচনাকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দিতে পারে। যদি এই সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।