ট্রাম্পের কড়া হুমকিতে ভেস্তে গেল বৈঠক! সুইজারল্যান্ডে আলোচনা ছাড়ল ইরান, ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ?

সুইজারল্যান্ড: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া হুমকিতেই ভেস্তে গেল সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টকে চলা চতুর্দেশীয় বৈঠক। লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির জেরে আমেরিকা, কাতার এবং পাকিস্তানের সঙ্গে চলা এই হাই-প্রোফাইল আলোচনা থেকে মাঝপথেই বেরিয়ে গেল ইরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ফের নতুন করে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনাচ্ছে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের।
কেন হঠাৎ বৈঠক ছাড়ল ইরান?
জানা গিয়েছে, ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে প্রযুক্তিগত স্তরে আলোচনা বেশ ভালোই এগোচ্ছিল। কিন্তু রবিবার বৈঠক চলাকালীনই নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করে লেখেন, “লেবাননে নিজেদের ‘highly paid proxies’-দের ঝামেলা পাকানো থেকে ইরানকে অবিলম্বে থামাতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে আমরা ইরানের ওপর গত সপ্তাহের চেয়েও কড়া আঘাত হানব!”
এই হুমকির পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইরান ক্ষুব্ধ হয়ে চতুর্দেশীয় এই বৈঠক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া ও পালটা হুঁশিয়ারি:
- হুমকিতে ভয় নয়: ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এমবি গালিবাফ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘হতাশার লক্ষণ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এক্স (X) হ্যান্ডেলে তিনি স্পষ্ট জানান, ওয়াশিংটনের হুমকিতে ইরান ভয় পাবে না এবং প্রয়োজনে দেশের সশস্ত্র বাহিনী মোক্ষম জবাব দিতে প্রস্তুত।
- যুদ্ধ থামানোর দাবি: ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ হতে হবে। আমেরিকার ওই হুমকিমূলক বিবৃতির পর আমরা জানিয়ে দিয়েছি যে এই পরিস্থিতিতে চতুর্দেশীয় বৈঠক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।” কাতার ও পাকিস্তান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ইরান তাতে আর রাজি হয়নি।
আলোচনা কি পুরোপুরি বন্ধ?
চতুর্দেশীয় বৈঠক স্থগিত হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে টেকনিক্যাল (প্রযুক্তিগত) স্তরে আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছে তেহরান। যে বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হচ্ছে:
- তেল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান।
- আমেরিকার হস্তক্ষেপে ইরানের আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়।
- হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াতের জন্য নিরাপদ সামুদ্রিক ব্যবস্থা তৈরি।
১৮ ঘণ্টার এই দীর্ঘ বৈঠকে যেটুকু চুক্তি বা আলোচনা হয়েছে, তার একটি সারসংক্ষেপ খুব শীঘ্রই প্রকাশ করবে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ কাতার ও পাকিস্তান। তবে ট্রাম্পের এই হুমকির পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত যে আরও একধাপ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।