বাবার বিদ্রোহেও অটল আনুগত্য, মাতশ্রীতে উদ্ধবের পাশে সঞ্জয়-কন্যা রাজুল!

মারাঠা রাজনীতিতে তীব্র ঝড় তুলে শিবসেনার উদ্ধব শিবির ভাঙার মুখে। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার (ইউবিটি) অন্তত ৬ জন সাংসদ। এই সম্ভাব্য দলবদলের তালিকায় অন্যতম আলোচিত নাম সাংসদ সঞ্জয় দিনা পাটিল। তবে বাবা বিদ্রোহের পথে হাঁটলেও, উদ্ধব ঠাকরের প্রতি নিজের অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করে চমকে দিয়েছেন তাঁর কন্যা রাজুল পাটিল। রবিবার উদ্ধবের বাসভবন ‘মাতশ্রী’তে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “বাবা বিদ্রোহী হলেও আমি গদ্দার নই।”
পারিবারিক মতভেদ বনাম রাজনৈতিক আনুগত্য
রবিবার মাতশ্রীতে উদ্ধব ঠাকরে ও আদিত্য ঠাকরের সঙ্গে দেখা করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন রাজুল পাটিল। তিনি সাফ জানান, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি উদ্ধব শিবিরের সঙ্গেই থাকছেন। পিতার দলবদল প্রসঙ্গে রাজুল বলেন, “আমাদের পরিবারে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সবার রয়েছে। বাবা তাঁর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি আমার সিদ্ধান্ত জানালাম। আমার সততায় উদ্ধবজি খুশি হয়েছেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবার চরম সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে কন্যার এই অবস্থান মারাঠা রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন পারিবারিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করল।
অপারেশন টাইগার ও দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া
উদ্ধব শিবিরে এই ভাঙনের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির ‘অপারেশন টাইগার’—এমনটাই গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি দিল্লিতে শিবসেনার সংসদীয় বৈঠকে হুইপ জারি করা সত্ত্বেও ৯ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র ৩ জন উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনার পরই দলের মুখ্য সচেতক অনিল দেশাই অনুপস্থিত ৬ সাংসদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চেয়ে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ে সন্তোষজনক জবাব না মিললে দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিদ্রোহী এই ৬ সাংসদের তালিকায় রয়েছেন নাগেশ আশিতকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকর, ভাওসাহেব ওয়াকচুরে এবং সঞ্জয় দিনা পাটিল। দলের মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আইন ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে স্পিকার কাজ করলে এই দলত্যাগীদের অযোগ্য ঘোষিত হওয়া সময়ের অপেক্ষা। তবে সাংসদদের এই দলবদল উদ্ধব শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হলেও, রাজুল পাটিলের মতো তরুণ নেতৃত্বের আনুগত্য দলকে এই সংকটের মুহূর্তে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।