ফসলের ক্ষতি হলেও মিলবে টাকা, বাংলার ৫০ লক্ষ কৃষকের জন্য চালু হলো মোদী সরকারের বিশেষ বিমা প্রকল্প!

কলকাতা, ২২ জুন: পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো বিশ্বের বৃহত্তম শস্য বিমা প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ (PMFBY)। গত ২০ জুন হুগলি জেলার তারকেশ্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পিএম কিষাণ যোজনার ২৩তম কিস্তির অর্থ প্রকাশের পাশাপাশি এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সূচনা করেন। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হলে বাংলার কৃষকরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। সম্প্রতি পিএম কিষাণ যোজনার মাধ্যমে রাজ্যের ৪৫ লক্ষেরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে ৯০০ কোটি টাকা স্থানান্তরের পরপরই এই বিমা প্রকল্প চালুর ঘোষণা রাজ্যের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।
স্বল্প প্রিমিয়ামে ফসলের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন খরা, বন্যা, শিলাবৃষ্টি কিংবা কীটপতঙ্গের উপদ্রবের কারণে প্রতি বছরই চাষিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, যা তাঁদের সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। কৃষকদের এই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে আয়ের স্থায়িত্ব বজায় রাখাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫০ লক্ষ কৃষক এবং ১৪ লক্ষ হেক্টর কৃষি জমি এই বিমা সুরক্ষার আওতায় আসবে। এর ফলে ফসলের আনুমানিক বিমাকৃত মূল্য ২৮,১৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এই প্রকল্পে কৃষকদের অত্যন্ত নামমাত্র প্রিমিয়াম দিতে হবে। রবি ফসলের জন্য ১.৫ শতাংশ, খরিফ ফসলের জন্য ২ শতাংশ এবং অর্থকরী বা উদ্যান ফসলের জন্য ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রিমিয়ামের অবশিষ্ট সিংহভাগ অর্থ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করবে, যার ফলে কৃষকরা কোনো ঋণ ছাড়াই পরবর্তী মরশুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাবেন।
আবেদনের সহজ পদ্ধতি
ইচ্ছুক ও যোগ্য কৃষকরা অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়ায় এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার অফিশিয়াল পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে ‘Farmer Corner’-এ গিয়ে মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি ব্যবহার করে লগ-ইন করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, চাষের জমি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। সবশেষে প্রযোজ্য প্রিমিয়াম পরিশোধ করে ফর্মটি জমা দিলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ছাড়াও যারা অনলাইনে আবেদনে স্বাচ্ছন্দ্য নন, তারা নিকটস্থ সরকারি কৃষি দফতর, অনুমোদিত ব্যাঙ্ক কিংবা কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে সরাসরি অফলাইনে আবেদন করতে পারবেন।