ট্রাম্পের হুমকির মাঝেই বড় পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি যোগাযোগ চালু করল ইরান ও আমেরিকা!

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে এবং যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ঘটনা এড়াতে সরাসরি একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান ও আমেরিকা। সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। লেক লুসার্ন সামিটের পর এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক হয়েছে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপও প্রস্তুত করা হয়েছে।
১৪ দফার সমঝোতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪-দফা সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সরাসরি যোগাযোগ লাইনটি তৈরি করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেবে না এবং কোনো ট্রানজিট ফি বা শুল্ক আদায় করবে না। পাশাপাশি, জাহাজ চলাচলের পথ সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে প্রযুক্তিগত ও সামরিক বাধা দূর করার লক্ষ্যে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করবে ইরান। প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন নির্ধারণে ওমান ও অন্যান্য উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার রূপরেখাও প্রস্তুত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে কৌশলগত এই জলপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলা পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভিন্ন দাবি ও উত্তেজনার কারণ
কূটনৈতিক স্তরে এই চুক্তির খবর এলেও, ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক কর্তৃপক্ষের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। রবিবার ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী এখনও বন্ধ রয়েছে। লেবাননে ইজরায়েলের ক্রমাগত হামলা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে আমেরিকার ব্যর্থতার কড়া জবাব হিসেবেই আইআরজিসি নেভি কোনো জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালী দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতা এবং অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।