বেকারত্ব মুক্তি ও বকেয়া ডিএ মেটানোর আশায় বঙ্গে প্রথম বিজেপি বাজেট

বেকারত্ব মুক্তি ও বকেয়া ডিএ মেটানোর আশায় বঙ্গে প্রথম বিজেপি বাজেট

আজ সোমবার পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিধানসভায় এই বাজেট পেশ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে বিপুল প্রত্যাশা। দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা কর্মসংস্থান, থমকে থাকা সরকারি নিয়োগ এবং সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) মতো একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে নতুন সরকার কী পথ দেখায়, সেদিকেই নজর রাখছেন আপামোর জনসাধারণ।

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের নতুন রোডম্যাপের দাবি

বাজেট ঘিরে আমজনতার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নকে কেন্দ্র করে। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত যুবসমাজের একটি বড় অংশ কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে। বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলির পুনরুজ্জীবন এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এই পরিযায়ী স্রোত ঠেকানোই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি, শিক্ষা ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বছরের পর বছর ধরে থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল করার সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখতে চাইছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা

আকাশছোঁয়া বাজারদরের জেরে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। সবজি থেকে মাছ—সবেরই দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কালোবাজারি রুখতে বাজেটে কড়া পদক্ষেপের আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ওষুধ সংকট দূর করা এবং শিক্ষাখাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, নারী সুরক্ষায় বিশেষ রোডম্যাপ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থার দিকেও তাকিয়ে রয়েছে বঙ্গের নারীসমাজ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং সাধারণ করদাতাদের উপর থেকে করের বোঝা কমিয়ে আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে।

সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে। নতুন সরকার ইতিমধ্যেই বকেয়া ডিএ-এর কিছুটা মেটাতে শুরু করলেও, এই বাজেটে সম্পূর্ণ বকেয়া প্রাপ্তি এবং সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণার আশা করছেন সরকারি কর্মীরা। এছাড়া বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার মতো সামাজিক পেনশন প্রকল্পগুলি নিয়মিত করার পাশাপাশি ভোটের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুত সামাজিক প্রকল্পগুলি দ্রুত চালু করার আর্থিক সদিচ্ছা এই বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে। সরকারের এই প্রথম বাজেট সামগ্রিকভাবে রাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *