উত্তরবঙ্গে টানা সাত দিন প্রবল দুর্যোগের সতর্কতা, কলকাতায় বুধবারে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস

আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা প্রবেশ করলেও দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির ঘাটতি বজায় রয়েছে। তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি—এই পাঁচ জেলায় সোমবার থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলবে। বিশেষ করে সোমবার আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে এবং আগামী শনি ও রবিবার উত্তরের পাঁচ জেলাতেই প্রবল বর্ষণের লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে অঞ্চলে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলাতেও আগামী সাত দিন ঝড়বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।
জোড়া অক্ষরেখার প্রভাবে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। মূলত পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ হয়ে বিহার পর্যন্ত একটি প্রধান মরসুমি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি, পূর্ব বিহার থেকে উপকূলীয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত সমুদ্রতল থেকে ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় আরও একটি অক্ষরেখা অবস্থান করছে। এই জোড়া অক্ষরেখার সক্রিয়তার কারণেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার জেরে উত্তরভাগে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া ও কলকাতার পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গে সামগ্রিক বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকলেও জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা এবং হুগলিতে আগামী বুধবার আবহাওয়া দফতরের বিশেষ সতর্কতা রয়েছে, যেখানে বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদীয়া জেলায় সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদেও সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।