ট্রাম্পের হুঙ্কারে ভেস্তে গেল ফটোশুট, সুইৎজ়ারল্যান্ডে হাত না মিলিয়েই শান্তিবৈঠক ছাড়লেন ইরানিরা!

সুইৎজ়ারল্যান্ডের একটি বিলাসবহুল রিসর্টে রবিবারের প্রথম দফার আমেরিকা-ইরান শান্তি-আলোচনা শুরুর আগেই চরম নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে বৈঠককক্ষ ছাড়েন ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্পের ‘হুঙ্কার’ এক ধাক্কায় কূটনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
টানটান উত্তেজনা ও আকস্মিক ছন্দপতন
রবিবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের রিসর্টে দুই বৈরী দেশের মধ্যে বরফ গলানোর লক্ষ্যে এক শান্তি-আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। অন্যদিকে আমেরিকার পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। কিন্তু বৈঠক শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুঁশিয়ারি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তিনি স্পষ্ট জানান যে ইরান যদি তাদের ‘বন্ধু’ অর্থাৎ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে সংযত না করে, তবে তেহরানে ফের হামলা চালাবে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই সুইৎজ়ারল্যান্ডে তীব্র প্রতিবাদে গর্জে ওঠে ইরানি প্রতিনিধিদল। আয়োজকদের পরিকল্পনা ছিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে একটি ফটোশুট এবং পারস্পরিক করমর্দনের। কিন্তু ট্রাম্পের বার্তার পর ক্ষুব্ধ তেহরান সমস্ত সৌজন্যমূলক কর্মসূচি একতরফাভাবে বাতিল করে দেয়। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আচমকা পিছন ফিরে নিজের প্রতিনিধিদলসহ ঘর থেকে বেরিয়ে যান ইরানি বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি।
পাক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের জটলা
ইরানের প্রতিনিধিদল ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দৃশ্যপটে আসেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি এগিয়ে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনায় মেতে ওঠেন। ইরানি প্রতিনিধিরা চলে গেলেও আমেরিকার সঙ্গে তাঁদের আলোচনা অবশ্য পুরোপুরি ভেস্তে যায়নি। প্রথম দিনের এই নাটকীয়তার পর ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান।
হরমুজ় প্রণালী ও সোমবারের সম্ভাব্য প্রভাব
প্রথম দফার বৈঠকে এই অচলাবস্থা তৈরি হলেও সোমবার দ্বিতীয় দফায় পুনরায় আলোচনায় বসার কথা রয়েছে দুই পক্ষের। তবে এই সংঘাতের জেরে আগামী দিনের আলোচনা বেশ জটিল রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে এই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ় প্রণালী’। ইরান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (মউ) অনুযায়ী আমেরিকা যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তবে হরমুজ় প্রণালী খোলার বিষয়ে তেহরান কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে না। ফলে রবিবারের এই কূটনৈতিক টানাপড়েন সোমবারের চূড়ান্ত সমঝোতায় কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।