কর্মসংস্থানে শুভেন্দুর ‘ত্রিশক্তি’ এবং সিন্ডিকেট দমনে কড়া আইনের পথে হাঁটল বাংলা!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশের পর কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে এক বড়সড় রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা রাজ্য বাজেটের মূল সুর ধরে রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে তাঁর সরকার ‘ত্রিশক্তি’ বা ত্রিফলা নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যে বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায় ‘সিন্ডিকেটরাজ’ চিরতরে নির্মূল করতে বাজেটে কড়া আইন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগে স্বচ্ছতা ও লাখো চাকরির ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘ত্রিশক্তি’র প্রথম ধাপ হলো সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি শূন্যপদ পূরণ। এই নীতির আওতায় শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পুলিশ ও বনকর্মীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রায় এক লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা দপ্তরে ৫০ হাজার, পুলিশে ২০ হাজার এবং অন্যান্য দপ্তরে ৩০ হাজার নিয়োগ করা হবে। পূর্বতন আমলের নিয়োগ দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রুখতে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এবার কোনো political ব্যক্তিকে নিয়োগ কমিটিতে রাখা হচ্ছে না। পরিবর্তে কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা ইউপিএসসি-র (UPSC) মডেল অনুসরণ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তৃতীয় ধাপে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের স্বনির্ভরতার জন্য স্কিল ট্রেনিং এবং ‘পিএম মুদ্রা’ ও ‘বিশ্বকর্মা’ যোজনার মাধ্যমে ঋণ ও ভর্তুকির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
শিল্প সুরক্ষায় সিন্ডিকেটরাজ খতমের কড়া আইন
ত্রিশক্তির দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে বেসরকারি বিনিয়োগ, বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (MSME) শিল্পের বিকাশ। অতীতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর জমি বা স্থানীয় স্তরে নানা অজুহাতে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের শিকার হতে হতো বিনিয়োগকারীদের, যার কারণে রাজ্যে নতুন শিল্প আসত না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুরসভা থেকে আলাদা কোনো অনুমতি নিতে হবে না। রাজ্য স্তরেই সব ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সিন্ডিকেটরাজ দমনে একটি কঠোর আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এই আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে রাজ্যে কাটমানির দৌরাত্ম্য কমবে, যা নতুন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে বাংলায় এক নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।