বাজেটের দিনই ডবল ধামাকা! বাংলায় প্রথমবার জেলা পরিষদ গঠন করে ইতিহাস গড়ল বিজেপি

পূর্ব মেদিনীপুর: একদিকে রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকারের জনমুখী বাজেট পেশ, অন্যদিকে জেলা পরিষদ দখলের ঐতিহাসিক জয়! সোমবার জোড়া সুখবরে মাতল গেরুয়া শিবির। বদলের বাংলায় এই প্রথমবার কোনও জেলা পরিষদে বোর্ড গঠন করল ভারতীয় জনতা পার্টি, আর সেটি হলো খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। সোমবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নিজেই এই ‘সুখবর’ রাজ্যবাসীর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নতুন দায়িত্বে কারা?

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বামদেব গুছাইত। পাশাপাশি সহকারী সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাঁশুরি পণ্ডিত।

উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

এই ঐতিহাসিক অর্জনের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “অত্যন্ত আনন্দের বিষয়, ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার কোনও জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন করেছে। আজ থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ বিজেপির সদস্যদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।”

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের দক্ষ নেতৃত্ব, জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার এবং উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পূর্ব মেদিনীপুরের সার্বিক অগ্রগতি আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।”

কীভাবে ঘটল এই রাজনৈতিক ম্যাজিক?

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে মোট আসন সংখ্যা ৭০টি। খাতায়-কলমে সেখানে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ৫৬ (বর্তমানে ২ জন মৃত) এবং বিজেপির মাত্র ১৪। গত ৫ জুন তৎকালীন সভাধিপতি তৃণমূলের উত্তম বারিক ইস্তফা দেওয়ার পর নতুন বোর্ড গঠনের প্রয়োজন পড়ে।

সোমবার জেলা প্রশাসনের তরফে নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের দিন স্থির করা হয়েছিল। ভোটাভুটিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ৪৭ জন এবং বিজেপির ১৪ জন সদস্য। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে, বিজেপির প্রস্তাবিত বামদেব গুছাইত এবং বাঁশুরি পণ্ডিতের নামেই নিঃশর্ত সমর্থন জানান উপস্থিত তৃণমূল সদস্যরাও! শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিনা বাধায় বোর্ড গঠন করে গেরুয়া শিবির।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পুরসভায় যখন লাগাতার রদবদল, বোর্ড ভাঙাগড়া ও বিদ্রোহ চলছে, তার মাঝে কোনও গোলমাল ছাড়াই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে বিজেপির এই মসৃণ বোর্ড গঠন রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *