মমতার হাতছাড়া দলের রাশ, অভিষেককে সাসপেন্ড করল ‘আসল তৃণমূল’!

বঙ্গ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব নাটকীয় মোড়। মাত্র এক মাস আগে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই কার্যত ভেঙে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ফসল। তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বড় অংশ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করে একদা দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করেছে।
পাওয়ার গেমে নতুন সমীকরণ
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসে। প্রবীণ নেতাদের অভিযোগ ছিল, দলে তাঁরা যোগ্য মর্যাদা পাচ্ছিলেন না এবং অভিষেকের কাছে পৌঁছতে তাঁদের চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হত। এই ক্ষোভ থেকেই বড়সড় ভাঙনের সূত্রপাত। ইতিমধ্যেই ৬৪ জনের বেশি বিধায়ক মমতার পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি, ২৮ জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনডিএকে সমর্থনের উদ্দেশ্যে এনসিপিআই নামক একটি দলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। নিউটাউনের এক পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে এই ‘আসল তৃণমূল’-এর চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও রথীন ঘোষের মতো একসময়ের মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতারা।
মমতার একঘরে অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত তাঁর নিজের দলেই সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন। ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় কলকাতা পুরসভাও তাঁর হাতছাড়া হয়েছে। দলের নবগঠিত কমিটি মমতাকে দলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরিয়ে শুধুমাত্র ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে রাখতে চাইছে। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন বঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো কাঠামোর সম্পূর্ণ পতন ঘটল, অন্যদিকে বিধানসভা ও লোকসভায় সমীকরণ বদলে গিয়ে নতুন জোটের ক্ষমতা অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেল। আগামী দিনে রাজ্যের ক্ষমতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এই ভাঙনের ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে।