অপারেশন সিঁদুরে রাফাল ধ্বংসের জল্পনা ওড়াল ভারত, ফের প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মিথ্যাচার!

অপারেশন সিঁদুরে রাফাল ধ্বংসের জল্পনা ওড়াল ভারত, ফের প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মিথ্যাচার!

বায়ুসেনার নথিতেই ফাঁস পাকিস্তানের ভুয়ো দাবি

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতের একাধিক রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল পাকিস্তান। তবে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সাম্প্রতিক সরকারি নথিতেই তাদের এই ধারাবাহিক মিথ্যাচার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এর আগে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে ফরাসি সেনা কমান্ডারের নাম ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছিল, যাতে ইন্ধন জুগিয়েছিল চিনও। কিন্তু বায়ুসেনার সদর দপ্তরের প্রকাশিত নতুন দরপত্র পাকিস্তানের এই ভিত্তিহীন দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে।

সম্প্রতি বায়ুসেনা ফ্রান্স থেকে কেনা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্যই পাঁচ মাস মেয়াদি একটি ‘ব্রিজ সাপোর্ট প্যাকেজ’ বা অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা ব্যবস্থার প্রস্তাব আহ্বান করেছে। ২০১৬ সালে ভারত ঠিক ৩৬টি রাফালই কিনেছিল। বর্তমানে পরিষেবায় থাকা সবকটি বিমানের জন্য এই রক্ষণাবেক্ষণ প্যাকেজের দরপত্র গাণিতিকভাবেই প্রমাণ করে যে, পাকিস্তানের হামলায় ভারতের একটিও রাফাল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়নি। এর ফলে সামরিক ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের ভুয়ো প্রচারের কৌশলটি বড়সড় ধাক্কা খেল।

অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফের হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র মানুষের মৃত্যুর পর ৭ মে প্রত্যাঘাত করে ভারত, যার সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় পালটা হামলা চালানোর চেষ্টা করলেও ভারতের শক্তিশালী প্রত্যাঘাতে তাদের অন্তত ১১টি বায়ু সেনাঘাঁটি ধ্বংস হয়।

ভারতীয় সেনার এই ৮৮ ঘণ্টার টানা অভিযানে ১০০ জনের বেশি জঙ্গি এবং প্রায় ৩৫-৪০ জন পাক সেনা নিহত হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে ইসলামাবাদের আর্জিতেই ভারত সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছিল। এই সামরিক সংঘাত একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছে, অন্যদিকে রাফাল নিয়ে পাকিস্তানের এই মিথ্যাচার আন্তর্জাতিক মহলে তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *