পার্ক সার্কাসে গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা, মুঘল-পাঠানদের নাম মুছবে কলকাতা থেকে

পার্ক সার্কাসে গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা, মুঘল-পাঠানদের নাম মুছবে কলকাতা থেকে

কলকাতা পুরনিগম সম্প্রতি পার্ক সার্কাস এলাকার ‘সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড’ রেখেছে। এই নামকরণের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর তরজা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় তার জবাব দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কলকাতায় মুঘল বা পাঠানদের নামে কোনও রাস্তা থাকবে না।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ও মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা জবাব

বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার খলনায়ক হুসেন সোহরাওয়ার্দিকে সমর্থন করার প্রশ্নই ওঠে না, তবে এই রাস্তাটি তাঁর নামে ছিল না। এটি মূলত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য হাসান সোহরাওয়ার্দির বাবা মৌলানা সোহরাওয়ার্দির নামে ছিল। ফলে ইতিহাস বিকৃত করে নাম বদল করা হয়েছে। এই যুক্তির কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতাকে ‘কমিউনিস্ট মনস্ক’ বলে কটাক্ষ করেন। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা যুক্তি দেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা দাসকে ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন উপাচার্য নাইট উপাধি পেয়েছিলেন, তাই ওই পরিবারের কারও নামে রাস্তা থাকতে পারে না। প্রকৃত দেশভক্তদেরই একমাত্র সম্মান দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নামকরণের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক বার্তা

১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর সময় হিন্দুদের রক্ষায় গোপাল মুখোপাধ্যায় বা ‘গোপাল পাঁঠা’-র ভূমিকার কথা তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বর্তমান শাসক শিবির। গত বছর তৎকালীন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ছবি হাতে পদযাত্রাও করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ নিছক কোনও রাস্তার নাম বদল নয়, বরং এর পিছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ ও বার্তা লুকিয়ে রয়েছে। রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরক্ষার নামে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *