কলকাতায় মুঘল-পাঠান বা বিদেশিদের নামে থাকবে না কোনও রাস্তা! শুভেন্দুর সাফ কথা
কলকাতা: “কলকাতা শহরে মুঘল ও পাঠানদের নামে আর কোনও রাস্তা থাকবে না।” সুরাবর্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম বদল নিয়ে তৈরি হওয়া প্রবল বিতর্কের মাঝেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া আর কোনও বিদেশি ব্যক্তির নামে কলকাতায় রাস্তা থাকলে, তা নিয়েও এবার নতুন করে ভাবনাচিন্তা করা হবে।
সুরাবর্দি অ্যাভেনিউ থেকে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’: তুঙ্গে বিতর্ক
সম্প্রতি পার্ক সার্কাসের সুরাবর্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ করেছে কলকাতা পুরসভা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিধানসভায় সুর চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। ঋতব্রতর যুক্তি, গোপাল মুখার্জির নামে বউবাজারে রাস্তা হলে মানানসই হত, কারণ তাঁর কর্মকাণ্ড মূলত সেখানেই ছিল। অন্যদিকে সাবিনার যুক্তি, শিক্ষাবিদ হাসান সুরাবর্দি আর মুসলিম লিগ নেতা হোসেন শাহিদ সুরাবর্দি এক ব্যক্তি নন।
জবাবে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?
বিরোধীদের যুক্তির কড়া জবাব দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সুরাবর্দির নাম তো থাকবেই না! প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. আব্দুল কালামের মতো প্রকৃত দেশভক্ত কাউকে সম্মান দেওয়ার দরকার হলে তথ্য দেবেন, মর্যাদা দেব। কিন্তু দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি দাঙ্গা বা অত্যাচারী ব্রিটিশদের সঙ্গে যুক্ত কারও নাম কলকাতায় থাকবে না।”
বিরোধীদের নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “যাঁরা নেতাজিকে তোজোর কুকুর বা রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া কবি বলেছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে নামকরণের উপদেশ নেব না।”
নামকরণে কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে নতুন কমিটি
রাজ্যে পালাবদলের পর প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ায় কলকাতা পুরসভার পুরোনো নামকরণ কমিটির অস্তিত্ব বিলোপ হয়েছিল। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে নতুন নামকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দিনে নামকরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ (কার্তিক মহারাজ)-এর নেতৃত্বে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। রাস্তার নাম বদলের কোনও প্রস্তাব থাকলে এই কমিটি তা বিবেচনা করবে।
সিপিএমের আশঙ্কা ও বিকাশ ভট্টাচার্যের সমালোচনা
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য এই নামবদলের পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, “আগে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি কমিটি আলোচনার পর নামকরণের সুপারিশ করত। এখন কোনও রীতিনীতি না মেনেই কমিশনার ইচ্ছেমতো কাজ করছেন।” অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর ‘বিদেশিদের নাম বাতিল’ মন্তব্যের জেরে বাম শিবির আশঙ্কা করছে যে, আগামী দিনে হয়তো লেনিন সরণি বা হো চি মিন সরণির মতো রাস্তার নামও বদলে ফেলা হতে পারে।