এবার বিধানসভার রাশও হাতছাড়া, বিএ কমিটিতে ব্রাত্যই রয়ে গেল কালীঘাট তৃণমূল!

এবার বিধানসভার রাশও হাতছাড়া, বিএ কমিটিতে ব্রাত্যই রয়ে গেল কালীঘাট তৃণমূল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের আবহে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। গত ১৯ জুন গঠিত হওয়া বিধানসভার নতুন বিজনেস অ্যাডভাইজারি (বিএ) কমিটিতে ঠাঁই মেলেনি মমতাপন্থী কোনো বিধায়কের। এর আগে বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের পদ হাতছাড়া হওয়ার পর, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে স্থান না পাওয়া কালীঘাটের শিবিরের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। স্পিকার পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ঋতব্রতপন্থীদেরই তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষমতার অলিন্দে নতুন সমীকরণ

নতুন এই কমিটিতে বিজেপির শীর্ষ সারির বিধায়কদের পাশাপাশি বড় আকারে জায়গা করে নিয়েছেন ঋতব্রতপন্থী বিধায়করা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন বিপ্লব মিত্র ও সমীর কুমার জানার মতো ঋতব্রতপন্থী বিধায়করা। এমনকি আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন সন্দীপন সাহা ও জাভেদ আহমেদ খানের মতো নেতারাও। অন্যদিকে, বিধানসভায় নামমাত্র উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সিপিআইএমের মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকী এবং কংগ্রেসের মোহতাব শেখ এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই সর্বদলীয় উপস্থিতির মাঝে কেবল কালীঘাট তৃণমূলের কোনো প্রতিনিধির না থাকা তাদের রাজনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে।

বিধানসভার রাশ হাতছাড়া হওয়ার প্রভাব

বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটিকে বিধানসভার অন্যতম চালিকাশক্তি বলা চলে। বিধানসভার অধিবেশন কবে শুরু হবে, কতদিন চলবে, কোন কোন বিল পেশ করা হবে এবং কোন বিষয়ে কতক্ষণ আলোচনা হবে—তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এই কমিটির বৈঠকেই। অর্থাৎ, গোটা বিধানসভার কার্যবিবরণী সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এই বিএ কমিটি। গত ১৫ বছর ধরে বিধানসভার এই সমস্ত গতিবিধি কালীঘাট থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতো। কিন্তু নতুন কমিটিতে কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সদনের কার্যপদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কালীঘাটের আর কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা বা প্রভাব থাকবে না, যা তাদের সংসদীয় ক্ষমতাকে অনেকটাই খর্ব করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *