শিল্প ও পরিকাঠামোয় জোর, বাংলার উন্নয়নে এডিবির বিরাট প্রস্তাব!

রাজ্যের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নে গতি আনতে এবার বড়সড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশের পরদিনই নবান্নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরা। এই বৈঠকে শিল্প করিডর থেকে শুরু করে পর্যটন, গণপরিবহণ এবং লজিস্টিক হাব তৈরির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একগুচ্ছ প্রস্তাব ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এডিবি।
বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত ও প্রস্তাবিত রূপরেখা
রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মূলত চারটি ‘সিটি ইকোনোমিক রিজিয়ন’ বা ‘সিইআর’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে এডিবি। পাশাপাশি কলকাতা, ডানকুনি, দুর্গাপুর এবং আসানসোলকে যুক্ত করে একটি বৃহৎ ম্যানুফ্যাকচারিং করিডর এবং হলদিয়া ও খড়গপুরে শিল্প করিডর তৈরির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ করিডর গড়ার কথাও উঠে এসেছে এই বৈঠকে। এছাড়াও ডানকুনি, শিলিগুড়ি ও হলদিয়াতে লজিস্টিক হাব নির্মাণ, পরিবহণে গতি আনতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাসের প্রসার, পর্যটন ক্লাস্টার তৈরি এবং পরিযায়ী শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের জন্য সস্তার আবাসন প্রকল্পের মতো সামাজিক পরিকাঠামোতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
শিল্পায়নের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাজেট পেশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই এডিবির সঙ্গে নবান্নের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মূল কারণ হলো, রাজ্য সরকার উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পথ দ্রুত সুগম করতে চাইছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকের সমস্ত প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পেশ করা হবে। এই মেগা প্রকল্পগুলি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।