দলের নির্দেশেই কাটমানি নিয়েছিলাম! জনরোষের মুখে টাকা ফেরালেন তৃণমূল নেতারা

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ এবার সরাসরি গিয়ে পড়ছে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের গায়ে। কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকে আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া ‘কাটমানি’ বা ঘুষের টাকা জনতার চাপে বাধ্য হয়ে ফেরত দিলেন তিন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। তবে টাকা ফেরানোর পাশাপাশি তাঁরা যে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ
শীতলকুচি ব্লকের ভাঐয়ের গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছোট বাংডাকি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকারি আবাসন প্রকল্প ‘আবাস যোজনা’-র ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল নেতা মনোজ অধিকারী, উত্তম বর্মন এবং ক্ষিতীশ দেব শর্মা প্রতিটি উপভোক্তার কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করেছিলেন। সম্প্রতি দুর্নীতি ইস্যুতে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হতে শুরু করলে, প্রবল জনরোষের মুখে পড়েন এই নেতারা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তাঁরা স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকে মোট প্রায় ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। অভিযুক্ত এক নেতার ছেলে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট একটি দিনেও বেশ কয়েকজনকে ১৩ হাজার টাকা ফেরানো হয়েছে। টাকা ফেরতের এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জনরোষ ও রাজনৈতিক প্রভাব
কাটমানি ফেরানোর এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, দুর্নীতি ইস্যুতে সাধারণ মানুষের সংগঠিত প্রতিরোধ ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো অভিযুক্তদের সাফাই। তৃণমূল নেতা মনোজ অধিকারী ও উত্তম বর্মন প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন যে, দলের নির্দেশ মেনেই তাঁরা ওই টাকা সংগ্রহ করেছিলেন এবং এখন মানুষ ফেরত চাওয়ায় তা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। নিচুতলার নেতাদের এই মন্তব্যের জেরে স্বাভাবিকভাবেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু কোচবিহার নয়, বরং গোটা রাজ্যেই কাটমানি ও দুর্নীতি বিরোধী ক্ষোভকে আরও উসকে দিতে পারে। দলের নির্দেশেই দুর্নীতির এই স্বীকারোক্তি শাসকদলের স্বচ্ছতার দাবিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে পড়তে বাধ্য।