তারাতলায় মৃত্যুফাঁদ! ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ আসগরের হাতেই তৈরি হচ্ছিল গুদাম, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

কলকাতা: লোহার বিমের ওপর ঢালাই করা হচ্ছিল বিশাল ছাদ। সেই প্রবল ভার সইতে না পেরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ তিন তলা গুদামের একাংশ। বুধবার তারাতলার ব্রেস ব্রিজের কাছে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই নির্মাণকাজ চলছিল এবং এর নেপথ্যে রয়েছেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী প্রোমোটার।
গুদামের মালিক ও প্রোমোটার কে?
জানা গিয়েছে, ওই সুবিশাল চায়ের গুদামটির মালিক শম্ভু বেহরা (বেহরা ব্রাদার্স)। আর গত ছয়-সাত মাস ধরে লোহা, টিন এবং কংক্রিট দিয়ে এই নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ডেভেলপার আসগর খান। সূত্রের খবর, এই আসগর দক্ষিণ কলকাতার এক দাপুটে তৃণমূল নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
উঠে আসছে বেআইনি নির্মাণের তত্ত্ব:
- অনুমোদন নিয়ে ধোঁয়াশা: কলকাতা বন্দর এলাকার জমি লিজ নিয়ে এই গুদামটি বানানো হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে কোনও নির্মাণ করতে গেলে কলকাতা পুরসভার (KMC) ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা NOC লাগে। আসগর খানের কাছে সেই বৈধ অনুমতি আদৌ ছিল কি না, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
- বেহরা ব্রাদার্সের পরিচয়: সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কো ম্পা নি মূলত চা-সহ বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষণের জন্য কলকাতার নানা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গুদামঘর পরিচালনা করে। লজিস্টিকস এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবসায় এরা বেশ পরিচিত নাম।
কী ঘটেছিল বুধবার?
তারাতলা ট্রান্সপোর্ট ডিপোর কাছে যখন জোরকদমে কাজ চলছিল, আচমকাই নির্মীয়মাণ গুদামের তিনতলার ছাদ হুড়মুড়িয়ে নিচে ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের অনুমান, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৫০ জনের মতো শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। বহু শ্রমিকের গুরুতর আহত হওয়ার খবর মিলেছে, রয়েছে প্রাণহানির আশঙ্কাও। এত বড় একটি বিপর্যয়ের পর এখন কাঠগড়ায় ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ প্রোমোটার আসগর খান।