৭ দিনের ডেডলাইন! সাহায্যহীন মাদ্রাসাগুলির পড়ুয়াদের তথ্য তলব বিকাশ ভবনের

কলকাতা: রাজ্যের অননুমোদিত তথা সরকারি সাহায্যহীন (Unaided) মাদ্রাসাগুলির উপর প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়াদের ভর্তির যাবতীয় তথ্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য এক জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকার (Directorate of Madrasah Education)।
কেন এই তড়িঘড়ি নির্দেশিকা?
বিকাশ ভবনের চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের সিংহভাগ সাহায্যহীন মাদ্রাসা সরকারি ‘বাংলার শিক্ষা পোর্টালে’ (Banglar Shiksha Portal) পড়ুয়াদের বর্তমান তথ্য নথিভুক্ত করেনি। তদন্তে উঠে এসেছে, বহু মাদ্রাসার এখনও কোনও নির্দিষ্ট ‘ইউডাইস কোড’ (UDISE CODE) নেই। এই কোড না থাকার ফলেই তারা পোর্টালে তথ্য আপলোড করতে পারছে না, যার ফলে সরকারের কাছে পড়ুয়াদের সংখ্যার কোনও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান বা ডেটাবেস নেই।
১৭ জেলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতা:
আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, বীরভূম, কোচবিহার, হুগলি, হাওড়া, জলপাইগুড়ি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পুরুলিয়া এবং উত্তর দিনাজপুর— এই ১৭টি জেলার ‘জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক’ (DOMA)-দের এই বিষয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে মাদ্রাসার পরিসংখ্যান:
- সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (Aided) মাদ্রাসা: প্রায় ৬০০-র কাছাকাছি।
- সাহায্যহীন (Unaided) মাদ্রাসা: ১,০০০-এরও বেশি।(এই দুই ধরনের মাদ্রাসাতেই একই ধারায় পঠনপাঠন হয়। তবে, খারিজি মাদ্রাসাগুলি নিয়ে সরকার এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি।)
কী কী জমা দিতে হবে?
ভবিষ্যতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের স্বার্থেই পড়ুয়াদের সঠিক সংখ্যা অবিলম্বে প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকার। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:
- নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সমস্ত তথ্য পূরণ করে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার টিআইসি (Teacher-in-Charge)-কে সশরীরে স্বাক্ষর করতে হবে।
- তথ্যের নির্ভুলতা যাচাইয়ের জন্য সেই স্বাক্ষরিত রিপোর্টের একটি পিডিএফ (PDF) কপি এবং এমএস এক্সেল (MS EXCEL)-এর একটি সফট কপি বিকাশ ভবনে পাঠাতে হবে।
- নির্দেশিকা পাওয়ার পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যেই এই গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।