বাংলায় অ্যাক্টিং স্কুল ও নতুন চলচ্চিত্র, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর হাত ধরে প্রগতিশীল বাংলার স্বপ্ন দেখছেন অনুপম খের!

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে চলেছে। দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর বাংলা চলচ্চিত্র প্রযোজনায় ফিরে এসে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হলেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ও প্রযোজক অনুপম খের। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে রাজ্যের চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন এবং বাংলায় একটি আধুনিক অভিনয় প্রশিক্ষণ স্কুল (অ্যাক্টিং স্কুল) গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব আসার পর একে স্বাগত জানিয়ে অভিনেতা এক নতুন ও ‘প্রগতিশীল বাংলা’র আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ছাব্বিশ বছর পর টলিউডে প্রত্যাবর্তন ও নতুন ছবির ঘোষণা
অনুপম খেরের এই সফরের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘ আড়াই দশক পর বাংলা সিনেমা শিল্পে তাঁর নতুন বিনিয়োগ। এর আগে ২০০২ সালে প্রখ্যাত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘বাড়িওয়ালি’ ছবির প্রযোজনা করেছিলেন তিনি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিপুল সমাদৃত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার ফিরদৌসুল হাসানের ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’-এর সাথে যৌথভাবে ‘অনুপম খের স্টুডিও’ প্রযোজনা করতে চলেছে নতুন বাংলা ছবি, যার নাম ‘শুরু থেকে শুরু’। এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা লগ্নেই তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায় কিংবা মৃণাল সেনের মতো মনীষী ও চলচ্চিত্রকারদের স্মৃতিবিজড়িত এই সাংস্কৃতিক খনিকে নতুন রূপ দেওয়ার বার্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই নতুন সিনেমা তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অভিনেতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
অ্যাক্টিং স্কুলের প্রস্তাব ও চলচ্চিত্রের সম্ভাব্য প্রভাব
এই বৈঠকের সবচেয়ে দূরদর্শী দিক ছিল বাংলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্টিং স্কুল বা অভিনয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব। অনুপম খের জানান, বাংলার তরুণ প্রতিভাদের সঠিক দিশা দেখাতে এবং অভিনয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এই স্কুল বড় ভূমিকা পালন করবে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ধরণের সাংস্কৃতিক বিনিয়োগ রাজ্যের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে যেমন স্থানীয় স্তরে নতুন কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে, তেমনই বলিউডের সাথে টলিউডের বাণিজ্যিক মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হবে। নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক এজেন্ডার সাথে সংগতি রেখে বাংলার ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র শিল্পকে জাতীয় স্তরে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।