মেয়ের ভালোবাসায় যমের দুয়ার থেকে ফেরা! তারাতলার দুর্ঘটনায় অলৌকিক ভাবে প্রাণ বাঁচল বাবার

কলকাতা: জীবন কখনও কখনো ভাগ্যের অমোঘ লিখনকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়। তারাতলার ভয়াবহ নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসে পড়া দুর্ঘটনায় এমনই এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন জগদ্দলের বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র চৌধুরী। যে দিনটি তাঁর জীবনের শেষ দিন হতে পারত, মেয়ের আদুরে আবদারই যেন সে দিন তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনল।
কী ঘটেছিল সেদিন?
বুধবার ভোরে তারাতলার গোডাউনের ঢালাইয়ের কাজের জন্য বেরোনোর তোড়জোড় করছিলেন ধর্মেন্দ্র। সাধারণত দিনে ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করলেও, সেদিন ওই গোডাউনে ১,০০০ টাকা মজুরির হাতছানি ছিল। সংসারের কথা ভেবে কাজে যাওয়া প্রায় নিশ্চিতই ছিল তাঁর। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে পাঁচ বছরের মেয়ে বাবার কোমর জড়িয়ে ধরে জেদ ধরল, “বাবা, আজ আর কাজে যেতে হবে না।”
মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ধর্মেন্দ্রর মন গলে যায়। তিনি ঠিক করেন, একদিন না গেলে বড় ক্ষতি হবে না। সেই সিদ্ধান্তই যে তাঁর পুনর্জন্ম হবে, তা তখন ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তিনি।
বন্ধুর পরিণতির সাক্ষী
ধর্মেন্দ্রর বদলে সেদিন কাজে যান তাঁর বন্ধু সন্দীপ পান্ডে। বিকেলের দিকে খবর আসে, হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে গোডাউনের ছাদ। ঘটনাস্থলেই ১৫ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সন্দীপকে। শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্ধুকে দেখতে গিয়ে নিজের অবধারিত মৃত্যু চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধর্মেন্দ্রর।
শয্যাশায়ী বন্ধুর দিকে তাকিয়ে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ছলছল চোখে ধর্মেন্দ্র বললেন, “মেয়ে আমার লক্ষ্মী। ভাগ্যিস ওর কথা শুনেছিলাম! ও না থাকলে আজ আমিও আর থাকতাম না।”
একই কাজের বরাত থাকলেও, মেয়ের ভালোবাসার টানেই যমের দুয়ার থেকে আজ নিশ্চিত মৃত্যুর হাতছানি থেকে রক্ষা পেলেন এই শ্রমিক।