আদিবাসীরা বাদ পড়লে মুসলিমরা কেন নয়! অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সরব মহুয়া

আগামী সপ্তাহে রাজ্য বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) বিল পেশ হতে চলেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই এই আইন বলবৎ করার বিষয়ে জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই বিলের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
মেরুকরণের অভিযোগ ও মহুয়ার তোপ
তৃণমূল সাংসদের দাবি, সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে জনকল্যাণ বা সাম্যের স্বার্থে নয়, বরং ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি চরিতার্থ করতেই এই বিল আনা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রস্তাবিত ইউসিসি থেকে আদিবাসীদের বাদ দেওয়ার কথা বলা হলেও মুসলিমদের কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে না। মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট জানান, কোনো আইন অভিন্ন হলে তা সকলের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া এবং অপর কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার এই সরকারি নীতিকে তিনি ‘নির্বাচিত দেওয়ানি বিধি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বৈচিত্র্যময় এই দেশে সকলের উপর একই ধরনের পোশাক, খাবার বা স্লোগান চাপিয়ে দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়।
সরকারি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পাশাপাশি ‘লভ জিহাদ’, ‘জমি জিহাদ’ এবং বলপূর্বক ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন আনার ঘোষণা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই জোড়া পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে তীব্র মেরুকরণ দেখা যেতে পারে। একদিকে সরকার যখন কড়া আইনি অবস্থান নিতে বদ্ধপরিকর, তখন বিরোধীরাও সংখ্যালঘু ও উপজাতিদের অধিকারের প্রশ্নে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত। এর ফলে আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি রাজ্যের সমাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।