তারাতলার ধ্বংসস্তূপে মৃত্যু বেড়ে ১৬, ত্রুটিপূর্ণ নকশার গাফিলতিতেই কি এত বড় বিপর্যয়!

তারাতলার ধ্বংসস্তূপে মৃত্যু বেড়ে ১৬, ত্রুটিপূর্ণ নকশার গাফিলতিতেই কি এত বড় বিপর্যয়!

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শনিবার সকালে কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসএসকেএম হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয় বাসন্তীর বাসিন্দা খালেক সরকারের। বর্তমানে আরও ১৯ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মৃতদের তালিকায় কৃষ্ণা চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, তিন কিশোর সহ মোট ১২ জনের পরিচয় আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল, যা এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা

কীভাবে এত বড় একটি নির্মাণ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। প্রাথমিক তদন্ত এবং প্রশাসনিক অভিযোগ থেকে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, গোডাউনটির নির্মাণকাজে চরম গাফিলতি এবং ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যানই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় লিজ-হোল্ডার সংস্থার কর্তা ও প্রাক্তন মেয়রের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আলিপুর আদালত তাঁকে ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মৃতদের মধ্যে একাধিক নাবালক শিশুশ্রমিক থাকায় বেআইনিভাবে শ্রমিক নিয়োগের চরম গাফিলতির বিষয়টিও সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব

মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি এই গাফিলতির জন্য পূর্বতন সরকার এবং তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে দায়ী করেছেন। বিধানসভায় ত্রুটিপূর্ণ নকশার নথি পেশ করে তিনি দাবি করেন, এই বেআইনি ও বিপজ্জনক নির্মাণে প্রাক্তন মেয়রের সরাসরি স্বাক্ষর ছিল। এই বিপর্যয়ের ফলে শহর জুড়ে বেআইনি ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কঠোর হতে চলেছে। একইসঙ্গে, ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজে নজরদারি বাড়াতে এবং শিশুশ্রমের মতো বেআইনি কাজ রুখতে আগামী দিনে প্রশাসনের তরফে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *