‘লভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদেই বদল ডেমোগ্রাফি’, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে হুঙ্কার দিলীপের

কলকাতা: রাজ্যে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে ‘লভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করেন, রাজ্যে দীর্ঘদিনের চক্রান্তে জনসংখ্যার বিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে ফেলা হয়েছে। তাঁর কথায়, “অন্যান্য অনেক রাজ্যেই এই আইন আনা হয়েছে। লভ জিহাদের মাধ্যমে দীর্ঘকাল ধরে ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ করার চক্রান্ত চলছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে জমি মাফিয়াদের দাপটে সরকারি জমি থেকে শুরু করে খাল-বিল-নদী—সবকিছু দখল হয়ে যাচ্ছে, এটি আসলে ল্যান্ড জিহাদের চক্রান্ত।”
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ও হিন্দু সুরক্ষা:
দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি মানুষ এসে রাজ্যের জমি-জায়গা দখল করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু সমাজ আজ বিপন্ন। তাদের জন্য একটি সুরক্ষা কবচ প্রয়োজন। এই সমস্ত সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এবং রাজ্যের জনসংখ্যা বিন্যাস ঠিক রাখতে কঠোর আইন আনতেই হবে।”
বাংলায় UCC-র প্রস্তুতি:
দেশে চতুর্থ রাজ্য হিসেবে বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হতে চলেছে। নতুন এই আইন লাগু হলে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পুরুষদের বহুবিবাহ রোধ এবং ‘লিভ ইন’ সম্পর্কের নথিভুক্তকরণ এই আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সূত্রের খবর, সোমবারই বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিলের মাধ্যমে ধর্মীয় বিধানের দোহাই দিয়ে নারীর অধিকার খর্ব করার প্রবণতা বন্ধ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিলের উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই আইনে আদিবাসীদের বাদ রাখা হলো, অথচ অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে? এখন সোমবার বিধানসভায় বিল পেশের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও চরমে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।