প্রতিনিধিহীন বসিরহাটে কি এবার ভোটের দামামা! কোমর বেঁধে মাঠে নামছে বিজেপি

প্রতিনিধিহীন বসিরহাটে কি এবার ভোটের দামামা! কোমর বেঁধে মাঠে নামছে বিজেপি

দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকা বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে দ্রুত উপনির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার যুক্তি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাইছে তারা। শুধু দাবি জানানোই নয়, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই এলাকায় সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও প্রার্থী খোঁজার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে পদ্ম শিবির।

বৃহস্পতিবার বসিরহাট সফরে গিয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলীয় সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে সম্ভাব্য উপনির্বাচনের রণকৌশল, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং প্রার্থী নির্বাচনের প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এই কেন্দ্রে কোনো সাংসদ না থাকায় এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এত দীর্ঘ সময় একটি লোকসভা কেন্দ্র জনপ্রতিনিধিহীন থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই রাজ্যের বাকি শূন্য বিধানসভা আসনগুলির সঙ্গেই যাতে বসিরহাটে ভোট করানো হয়, সেই দাবি তুলছে দল।

আড়ালে প্রার্থী খোঁজ ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ

ভোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও বিজেপির অন্দরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়ে গেছে। স্থানীয় সংগঠনের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েই চূড়ান্ত নাম দিল্লি পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। তবে কৌশলগত কারণে এখনই কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে আনতে নারাজ গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতারা। মূলত গত নির্বাচনের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সুধরে নিয়ে এখন থেকেই বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে চাঙ্গা করাই প্রধান লক্ষ্য।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বসিরহাটের ভৌগোলিক ও সামাজিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই উপনির্বাচন রাজ্য রাজনীতির জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন এখনো ভোটের দিন ঘোষণা না করলেও বিজেপির এই আগাম তৎপরতা বাকি দলগুলিকেও চাপে রাখবে। বসিরহাটে দ্রুত ভোট হলে তা একদিকে যেমন শাসক ও বিরোধী শিবিরের জন্য নতুন সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা হবে, অন্যদিকে এলাকার থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে। শেষ পর্যন্ত কমিশন কবে ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *