জলাভূমি বুজিয়ে ৫০০-র বেশি অবৈধ নির্মাণ! কড়া পদক্ষেপে আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের

ইস্ট কলকাতা মেট্রোপলিটান এলাকায় বেআইনি নির্মাণের রমরমা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। পরিবেশ বিধিকে তোয়াক্কা না করে কীভাবে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। এই ঘটনায় জবাবদিহি করতে কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের তিন উচ্চপদস্থ কর্তাকে আগামী ১৪ জুলাই সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জলাভূমি ভরাট ও পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন
দীর্ঘদিন ধরেই ইস্ট কলকাতা মেট্রোপলিটান এবং সংলগ্ন এলাকায় জলাভূমি বুজিয়ে অবৈধ বহুতল নির্মাণের অভিযোগ করে আসছিলেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে ওই এলাকায় পাঁচশোর বেশি বেআইনি নির্মাণ রয়েছে। সম্প্রতি তারাতলা বিপর্যয়ের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, যার জেরে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে উচ্চ আদালত প্রশ্ন তুলেছে, জলাভূমি বুজিয়ে পরিবেশের নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক অবৈধ ইমারত গড়ে উঠল।
হাই কোর্টের কড়া অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা সুস্পষ্টভাবে এই ৫০০-র বেশি বেআইনি নির্মাণের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশাসনের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছেন। এই নির্মাণগুলো অবৈধ প্রমাণিত হলে সেগুলি ভাঙার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কী রূপরেখা রয়েছে, তা নিয়ে শীর্ষ কর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে। হাই কোর্টের এই কড়া অবস্থানের ফলে প্রশাসনের ওপর জবাবদিহিতার চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই বেআইনি নির্মাণ চক্রের বিরুদ্ধে আগামী দিনে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে মেট্রোপলিটান এলাকায় জলাভূমি ও পরিবেশ রক্ষার নিয়মকানুন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।