দিনে ২০ ঘণ্টা খাটুনি আর পাহারায় পিটবুল, উত্তরপ্রদেশের কারখানায় উদ্ধার ১২ শ্রমিক!

উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে একটি কাগজের থালা-বাটি তৈরির কারখানায় হদিস মিলল অমানবিক দাসপ্রথার। লোভনীয় চাকরির ফাঁদে ফেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা শ্রমিকদের আটকে রেখে দিনের পর দিন চালানো হত পাশবিক অত্যাচার। সম্প্রতি ওই কারখানা থেকে পাঁচিল টপকে পালিয়ে আসা রাজস্থানের বিক্রম নামের এক শ্রমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ১২ জন বন্দি শ্রমিককে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় কারখানার সুপারভাইজার শিব ত্যাগী ও মালিকের বাবা প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত কারখানার মালিক অঙ্কিত বালিয়া এখনও পলাতক।
পাহারায় পিটবুল ও অমানবিক নির্যাতন
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের বয়ানে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। ভালো বেতন ও বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে আসার পর প্রথমেই তাঁদের মোবাইল ফোন ও যাবতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হত। এরপর শুরু হত দৈনিক ২০ ঘণ্টার হাড়ভাঙা খাটুনি। অসুস্থ হলে বা বিশ্রাম চাইলে লোহার রড ও বেল্ট দিয়ে চালানো হত অকথ্য মারধর। কেউ যাতে পালাতে না পারেন, তার জন্য পাহারায় রাখা হয়েছিল হিংস্র পিটবুল কুকুর। খাবার হিসেবে সারা দিনে জুটত সামান্য তুষের রুটি আর অল্প তরকারি। উদ্ধারের পর স্বাস্থ্যপরীক্ষায় শ্রমিকদের শরীরে গভীর ক্ষত ও হাড় ভাঙার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
মাসের পর মাস নিখোঁজ থাকা দিলশাদ বা আগরার সোনু চৌহানের মতো শ্রমিকেরা উদ্ধার হওয়ার পর তাঁদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে দীর্ঘদিনের এই অমানবিক চক্রের কারণে কারখানার ভেতরে বেশ কয়েক জন শ্রমিকের মৃত্যুর আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। কাজের খোঁজে থাকা নিরীহ মানুষদের আর্থিক দুর্বলতা ও অসহায়তার সুযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা এই চক্র সমাজে অসংগঠিত শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনার ফলে ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে পুরো চক্রটির শেকড় খুঁজতে এবং পলাতক মালিকের সন্ধানে জোরদার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।