বিয়ে এড়াতেই প্রেমিকের সঙ্গে মিলে হবু স্বামীকে খুন! পুলিশের জালে সিয়ার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

পুনে: রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এল এক শিহরণ জাগানো তথ্য। সম্পত্তি বা পুরনো শত্রুতা নয়, বরং শুধুমাত্র ‘বিয়ে’ এড়ানোর লক্ষ্যেই কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল। পুলিশের জেরায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করেছেন সিয়া।
কেন এই নৃশংস খুন?
তদন্তকারীদের দাবি, সিয়া কেতনকে একেবারেই বিয়ে করতে চাননি। তাঁর ধারণা ছিল, কেতনকে সরিয়ে দিতে পারলে অন্তত আরও তিন বছর বিয়ের চাপ থেকে তিনি মুক্তি পাবেন। একইসঙ্গে সিয়ার প্রেমিক তথা সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীও সিয়াকে বিয়ে করার আগে নিজের জীবন গুছিয়ে নিতে আরও ২-৩ বছর সময় চেয়েছিলেন। বিয়ে ভেঙে সামাজিক অপমানের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে তাঁরা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে আসা কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:
- গভীর প্রেম: সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলের ক্রিকেটার বন্ধু চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সিয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তদন্তে উঠে এসেছে, জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে সিয়া ও চেতনের মধ্যে ২,০০৪ বার ফোনে কথা হয়েছে, যার মোট সময়কাল প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা।
- নিখুঁত ছক: খুনের ঠিক একদিন আগে, ১৭ জুন পুনের একটি ক্যাফেতে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেছিলেন সিয়া ও চেতন। পুলিশ মনে করছে, সেই বৈঠকেই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নীল-নকশা তৈরি হয়।
- তথ্য লোপাটের চেষ্টা: পুলিশের চোখ এড়াতে নিজেদের ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ইনস্টাগ্রাম মেসেজ পুরোপুরি ডিলিট করে দিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। এমনকী রিসাইকেল বিনও খালি করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সেই তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পুলিশি তৎপরতা:
শুক্রবার এই মামলার তদন্তে সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলকে টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। চেতনের সঙ্গে সাহিলের পরিচয় ও সিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যই এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ জোগাবে।