বাংলায় আসছে ‘ইউসিসি’ ও কঠোর ধর্মান্তর-বিরোধী আইন, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

কলকাতা: উত্তরপ্রদেশ বা উত্তরাখণ্ডের ধাঁচেই এবার পশ্চিমবঙ্গেও ‘লভ জেহাদ’, ‘ল্যান্ড জেহাদ’ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ রুখতে কড়া আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে রাজ্যে দ্রুত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করার বিষয়েও সবুজ সংকেত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক জনসভায় এই তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আমজনতাকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, একটু সময় দিন।” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ঋষি অরবিন্দ, নেতাজি ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পুণ্যভূমিতে কোনো দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।
কী এই নতুন আইনের পরিকল্পনা?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। প্রস্তাবিত ইউসিসি-র রূপরেখা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন:
- গুজরাট, উত্তরাখণ্ড এবং আসামের মডেল অনুসরণ করে রাজ্যে নতুন বিল আনা হবে।
- এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
- বিল পেশ করার আগে সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হবে।ইতিমধ্যেই ‘পশ্চিমবঙ্গ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, ২০২৬’ আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল:
মুখ্যমন্ত্রীর এই জোড়া ঘোষণার পরেই রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে।
- তৃণমূল কংগ্রেস: সাংসদ মহুয়া মৈত্র বিলটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই বিল সমাজে মেরুকরণ তৈরি করতে পারে এবং সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সামাজিক অধিকারে আঘাত হানতে পারে।
- কংগ্রেস: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, ভারত বৈচিত্র্যময় দেশ। একক আইন কার্যকর করার আগে সমস্ত সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও ঐকমত্যের প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে চলেছে।