মোদি মন্ত্রিসভায় এবার বড় রদবদল, লিয়েন্ডার থেকে রাঘব চাড্ডাদের ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী জর্জ কুরিয়েনের পদত্যাগের পর মোদি মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্তির সাথে মিল রেখে আগামী মাসের শুরুতেই এই পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। প্রায় ৭ থেকে ৮ জন নতুন সাংসদ এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। একই সাথে সাংগঠনিক রদবদল ও মন্ত্রিসভার পরিবর্তনকে একই সূত্রে বাঁধার এক অভিনব কৌশল নিয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।
নতুন মুখের আগমন ও হেভিওয়েটদের বিদায়ের ইঙ্গিত
নতুন সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে আম আদমি পার্টিতে সাম্প্রতিক ভাঙনের কারিগর ও সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ রাঘব চাড্ডার নাম। পাঞ্জাবের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অন্যদিকে, ‘রামায়ণ’ ধারাবাহিকে রামের ভূমিকায় অভিনয় করা উত্তরপ্রদেশের প্রবীণ অভিনেতা ও সাংসদ অরুণ গোভিলও রয়েছেন মন্ত্রিত্বের দৌড়ে। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন নিশ্চিত ধরে নিয়ে বাংলার টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হতে পারে। জর্জ কুরিয়েনের বিদায়ের পর মন্ত্রিসভায় কোনো খ্রিষ্টান প্রতিনিধি না থাকায় লিয়েন্ডারের অন্তর্ভুক্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। পাশাপাশি, তৃণমূল শিবির থেকে আসা কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শিবসেনার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কোনো নেতারও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
রদবদলের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, এবারের রদবদলের মূল কারণ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ও সরকারকে নতুনভাবে সাজানো। কার্যকারিতা, বয়স এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু পুরনো এবং বিতর্কিত মন্ত্রীকে সরিয়ে তাঁদের দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে আনা হতে পারে। যেমন, বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগে নাম জড়ানো পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরীর মন্ত্রিত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে কি না, তা নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে। এই রদবদলের ফলে একদিকে যেমন তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্ব গুরুত্ব পাবে, অন্যদিকে বিভিন্ন রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে বিজেপি বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।