অ্যান্টাসিডে সাময়িক আরাম, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বিকল হচ্ছে শরীর! সতর্ক করলেন AIIMS-এর চিকিৎসকরা

কলকাতা: একটু গ্যাস বা বুক জ্বালা করলেই মুঠো মুঠো গ্যাসের ওষুধ গিলে ফেলার অভ্যাস আছে? সাবধান! এই অভ্যাসই আপনার অজান্তে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যথেচ্ছভাবে অ্যান্টাসিড খাওয়ার প্রবণতা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
শরীরের যেসব অঙ্গের ক্ষতি হচ্ছে:
AIIMS-এর ‘গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি অ্যান্ড হিউম্যান নিউট্রিশন’ বিভাগের অধ্যাপক ডা. শালিমার জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী এবং অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড সেবনের ফলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে:
- হাড়ের ক্ষয়: নিয়মিত অ্যান্টাসিড শরীরে ক্যালসিয়াম এবং জরুরি পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। এর ফলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়, সামান্য আঘাতেই হাড় ভাঙার ঝুঁকি তৈরি হয়।
- ফুসফুসের সংক্রমণ: চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধ দীর্ঘস্থায়ী হলে নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
কেন এই অভ্যাস বিপজ্জনক?
ডা. শালিমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাময়িক স্বস্তি পেতে ওষুধ খাওয়া ঠিক আছে, কিন্তু মাসের পর মাস চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের মর্জিমাফিক ওষুধ খেয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম ক্ষতিকর। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে ওষুধের ‘ওভারডোজ’ শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
গ্যাস-অম্বল থেকে বাঁচতে চিকিৎসকদের পরামর্শ:
ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:
১. খাদ্যাভ্যাস: দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, ভাজাভুজি ও মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। বারবার অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২. জীবনশৈলী: মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস করুন।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। পর্যাপ্ত জল পান করুন।
কখন সতর্ক হবেন?
যদি বারবার গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকে, তবে বারবার ওষুধ খেয়ে রোগকে ধামাচাপা দেবেন না। বরং চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সঠিক কারণ খুঁজে বের করুন। রোগের গোড়ায় চিকিৎসা করাই সুস্থ থাকার একমাত্র পথ।