ট্রেন বা কামরা বুকিংয়ের নিয়ম জানেন? নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসকাণ্ডের পর জেনে নিন আসল পদ্ধতি

বিয়ে, অনুষ্ঠান বা দলবদ্ধ ভ্রমণের জন্য আস্ত কামরা বা গোটা ট্রেন বুক করা যায় কি? নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসে কামরা সাজিয়ে ‘হানিমুন কোচ’ বানানোর ভাইরাল ভিডিয়োর পর দেশজুড়ে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। জেনে নিন ভারতীয় রেলের নিয়ম অনুযায়ী কীভাবে এই সুবিধা পাওয়া যায়।
সম্প্রতি নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসের একটি কামরায় ফুল, মোমবাতি ও গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রেল কর্তৃপক্ষ ওই কামরার দায়িত্বে থাকা কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে। তবে রেলের মতে, কামরা বুকিংয়ে নিষেধাজ্ঞা নেই, কিন্তু তা করতে হয় সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে।
কীভাবে বুক করবেন আস্ত কামরা বা ট্রেন?
দক্ষিণ-মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগকারী আধিকারিক (সিপিআরও) এ শ্রীধরের মতে, সাধারণ রিজ়ার্ভেশন টিকিটে উঠে কামরা সাজানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য রেলের FTR (Full Tariff Rate) রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
- সময়সীমা: যাত্রার অন্তত ৩০ দিন আগে আবেদন করতে হয়, তবে সর্বোচ্চ ৬ মাস আগে পর্যন্ত এই আবেদন করা যায়।
- নিয়ম: এফটিআর (FTR) বুকিংয়ের মাধ্যমে একটি ট্রেনের সর্বোচ্চ ২টি কোচ সংরক্ষিত করা সম্ভব।
- সম্পূর্ণ ট্রেন বুকিং: গোটা ট্রেন বুক করার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৮টি কোচের টাকা জমা দিতে হয়, যদিও সর্বোচ্চ ২৪টি কোচ পর্যন্ত বুক করা যায়।
- নিরাপত্তা আমানত (Security Deposit): কোচ প্রতি ৫০,০০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ও নিরাপত্তা আমানত জমা দিতে হয়। অর্থাৎ, ১৮টি কোচের কম বুক করলেও ১৮টি কোচের সমপরিমাণ অর্থ (৯ লক্ষ টাকা) জামানত হিসেবে জমা রাখা বাধ্যতামূলক।
- প্রক্রিয়া: আবেদনের সময় যাত্রার কারণ ও বিশদ বিবরণ দিতে হয়। এরপর একটি রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিই বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়।
সাধারণ যাত্রী হিসেবে নিজের ইচ্ছেমতো কামরা দখল বা সাজানো আইনত নিষিদ্ধ। তাই যেকোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য রেলের বৈধ পদ্ধতি অনুসরণ করাই একমাত্র উপায়।