গুরু পূর্ণিমা ২০২৬: তারিখ, তিথি ও পালনের সঠিক নিয়ম জেনে নিন

গুরু পূর্ণিমা ২০২৬: তারিখ, তিথি ও পালনের সঠিক নিয়ম জেনে নিন

আষাঢ়ের শেষলগ্নে আসে গুরু পূর্ণিমা। জীবনের অন্ধকার দূর করে যারা আমাদের জ্ঞানের আলো দেখিয়েছেন, সেইসব পথপ্রদর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর বিশেষ দিন এটি। মা-বাবা, শিক্ষক কিংবা আধ্যাত্মিক গুরু—সকলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গুরু পূর্ণিমার দিনক্ষণ ও তিথি: বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গুরু পূর্ণিমা পালিত হবে ২৯ জুলাই, বুধবার (১২ শ্রাবণ, ১৪৩ বঙ্গাব্দ)। শাস্ত্রমতে, সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি থাকে, সেই দিনটিই পালনের জন্য গণ্য হয়।

তিথির সময়সূচি নিম্নরূপ:

  • পূর্ণিমা তিথি শুরু: ২৮ জুলাই, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬:১৮ মিনিট।
  • পূর্ণিমা তিথি সমাপ্ত: ২৯ জুলাই, বুধবার রাত ৮:০৫ মিনিট।

গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য: এই দিনটি মহর্ষি বেদব্যাসের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়, যিনি বেদ বিভাজন ও মহাভারত রচনার মাধ্যমে ‘আদি গুরু’র মর্যাদা পেয়েছেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই বিশ্বজুড়ে শিষ্যরা এই দিনটিকে গুরু পূর্ণিমা হিসেবে উদযাপন করেন।

কীভাবে পালন করবেন এই দিনটি?

  • পুজো ও আরাধনা: সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার (সাদা বা হলুদ) পোশাক পরিধান করুন। এরপর গুরুদেবের ছবি বা ইষ্টদেবের সামনে ফুল, চন্দন, ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো করুন। এ সময় “গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরু দেবো মহেশ্বর” মন্ত্রটি জপ করা অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়।
  • আশীর্বাদ গ্রহণ: দীক্ষিতরা গুরুর কাছে গিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিন। যারা দূরে আছেন, তারা ফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানান।
  • দান ও সেবা: এই দিনে উপবাস, দান-ধ্যান ও সেবামূলক কাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অভাবী ছাত্রকে বই প্রদান বা অন্নদান করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয়।
  • অন্যান্য রীতি: অনেকের বাড়িতে এই দিন সত্যনারায়ণ পুজো বা গীতা পাঠ হয়। সম্ভব হলে সন্ধ্যার আগেই পুজো সম্পন্ন করা ভালো। তবে ভোরবেলা বা ব্রহ্ম মুহূর্তে জপ-ধ্যান করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।

গুরু পূর্ণিমা আমাদের ব্যস্ত জীবনে একটু থেমে দাঁড়িয়ে নিজেদের আজকের অবস্থানের পেছনে থাকা মানুষদের অবদানের কথা মনে করার সুযোগ করে দেয়। এই ২৯ জুলাই দিনটি শুধু পুজোর জন্যই নয়, বরং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি অনন্য মাধ্যম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *