Ladki Bahin Yojana: নিয়ম লঙ্ঘনে তালিকা থেকে বাদ ৯২ লক্ষ নাম, প্রশ্নের মুখে সরকারি খরচ

মহারাষ্ট্র সরকারের জনপ্রিয় ‘মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ নিয়ে বড়সড় ধাক্কা। সরকারি তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণে প্রকল্পটির উপভোক্তা তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেল প্রায় ৯২ লক্ষ মহিলার নাম। বর্তমানে এই তালিকা থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ উপভোক্তা ছাঁটাই হওয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে।
কেন বাদ পড়ল নাম? প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, নিয়ম না মানার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
- ই-কেওয়াইসি জটিলতা: প্রায় ৫৫ লক্ষ মহিলা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে পারেননি।
- আয়করদাতা: প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা আয়কর জমা দেন এবং তাঁদের বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার (আড়াই লক্ষ টাকা) বেশি।
- বয়সসীমা: ৪৫ লক্ষের বেশি আবেদনকারীর বয়স প্রকল্পের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ ৬৫ বছরের বেশি।
- জালিয়াতি: প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য ১৪ হাজার পুরুষও আবেদন করেছিলেন, যা স্ক্রুটিনিতে ধরা পড়ার পর বাতিল করা হয়।
- অন্যান্য প্রকল্প: ৫ লক্ষ মহিলা ইতিমধ্যে ‘নমো শেতকারী যোজনা’-র সুবিধা পাওয়ায়, একই সুবিধা দ্বিতীয়বার না দেওয়ার নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বিড় জেলায়, যেখান থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, যদি কোনো প্রকৃত উপভোক্তার নাম ভুলবশত বাদ পড়ে থাকে, তবে তাঁদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রি-ভেরিফিকেশন বা পুনঃ-যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো হবে।
আর্থিক বোঝা নিয়ে সিএজি-র উদ্বেগ এদিকে, এই প্রকল্পের বিপুল খরচ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশের নিয়ামক সংস্থা ‘কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল’ (CAG)। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের ব্যয় মহারাষ্ট্রের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড়সড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, ৩,৫৪১ কোটি টাকার খরচকে সিএজি ‘যৌক্তিক নয়’ বলে উল্লেখ করেছে। সরকারি নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩-২৪ সালে মহিলা কল্যাণে খরচ ছিল মাত্র ২৬১.৭৮ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে বহুগুণ বেড়ে ৩৩,৫৫৪.৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।