তৃণমূলের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়নি, পাল্টা দাবি ইডির; হাইকোর্টে রায়দান স্থগিত

হাইকোর্ট ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শুনানি অবশেষে শেষ হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শেষে আপাতত রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে। ইডির জমা দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালত পরবর্তী নির্দেশ দেবে।
আদালতে দুই পক্ষের লড়াই: শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ও কিশোর দত্ত অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পরিকল্পিতভাবে অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পিএমএলএ (PMLA) আইনের অপপ্রয়োগ।
এর পাল্টা জবাবে ইডির অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু জানান, তৃণমূলের দাবি ভিত্তিহীন। ইডির দাবি, মোট আটটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে মাত্র তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। বাকি অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের সুযোগ রয়েছে, ফলে দল পরিচালনায় আর্থিক সংকটের কোনো অবকাশ নেই। তদন্তকারী সংস্থাটির দাবি, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হবে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ: এদিন মামলার শুনানিতে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, যেহেতু দলের কর্তৃত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন, তাই এই মুহূর্তে আদালত সেই বিতর্কে হস্তক্ষেপ করবে না।
রাজনৈতিক চর্চায় এখন কী? তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলার রায় রাজ্যের রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এখন সবার নজর, ইডির জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত কী পর্যবেক্ষণ দেয় এবং চূড়ান্ত রায়ে কী উঠে আসে।