বাংলায় ১০ কোটি বৃক্ষরোপণের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর, জনপ্রতিনিধিদের জন্য বেঁধে দিলেন কড়া লক্ষ্যমাত্রা

বাংলায় ১০ কোটি বৃক্ষরোপণের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর, জনপ্রতিনিধিদের জন্য বেঁধে দিলেন কড়া লক্ষ্যমাত্রা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরণ্য সপ্তাহ পালনের সূচনাপর্বে দাঁড়িয়ে রাজ্যের সবুজায়ন নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের পরিবেশ রক্ষায় এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ডাক দিয়ে তিনি জানালেন, এবার রাজ্যে অন্তত ১০ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি শুরু করেছেন এক ‘সুস্থ প্রতিযোগিতা’।

জনপ্রতিনিধিদের জন্য বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, কেবল চারাগাছ রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও নিতে হবে। দুই বছর পর্যন্ত প্রতিটি গাছের রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিং করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতার বাতাবরণ তৈরি করতে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন:

  • পঞ্চায়েত সদস্য: ১০০০টি করে গাছ।
  • বিধায়ক: ১ লক্ষ করে গাছ।
  • সাংসদ: নিজের এলাকায় অন্তত ৭ লক্ষ করে গাছ।

পরিবেশ রক্ষায় নতুন উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ অভিযানের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যেও এই আন্দোলনের জোয়ার আনা হবে। পাশাপাশি বজ্রপাত রুখতে উপকূল ও গ্রামীণ এলাকায় রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রচুর নারকেল গাছ বিতরণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রথযাত্রার মেলাগুলোতে সরকারি পরিষেবা শিবিরের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ফলের চারাগাছ বিলি করা হবে।

বনদফতর নিয়ে কড়া বার্তা: রাজ্যের বনদফতরকে দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন: ১. অবৈধ কারবার বন্ধ: পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় জঙ্গল থেকে বেআইনি গাছ কাটা এবং অবৈধ কাঠের মিলের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালানো হবে। ২. স্বচ্ছ নিয়োগ: বনদফতরের দীর্ঘদিনের কর্মী সংকটের সমাধানে এবার পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (PRB) মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে কর্মী নিয়োগ করা হবে। ৩. অনুকম্পামূলক চাকরি: কর্মরত অবস্থায় মৃত বনকর্মীদের পরিবারের জন্য অনুকম্পামূলক চাকরির ফাইল দ্রুত অনুমোদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের আমলে পরিবেশগত অবহেলার কথা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যের সফল মডেল অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গকেও বনজ সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় দেশের অন্যতম সেরা রাজ্যে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *